শিরোনামঃ

রঙের উৎসবে চারুকলা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মুখর শিল্পীরা



আল ইমরান রাজু , ঢাকা 


​বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আসতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মেতে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। চারুকলার আঙিনা এখন রঙ, তুলি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মুখর। "বৈশাখী শোভাযাত্রাকে" সামনে রেখে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।



​সরেজমিনে চারুকলা চত্বর ঘুরে দেখা যায়, অনুষদের প্রতিটি তলা ও বকুলতলায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল সব কাঠামো। বাঁশের চটা, কাঠ আর কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে হাতি,ঘোড়া পেঁচা, রুপালি ইলিশ সহ বিভিন্ন লোকজ মোটিফ।


 শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির সরা আর পটচিত্রে প্রাণ পাচ্ছে চিরচেনা বাংলার রূপ।




​এই বিশাল আয়োজনে সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে। তাদের কাছে এই প্রথম বৈশাখী প্রস্তুতি যেন এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম নিজের প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত।


​মাটির সরায় আলপনা আঁকতে আঁকতে তাবাসসুম বলেন:


​"স্কুল-কলেজে থাকতে টিভিতে বা পত্রিকায় চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার খবর দেখতাম। আজ আমি নিজেই এই সৃজনশীল কাজের একজন ক্ষুদ্র অংশীদার—এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সিনিয়রদের নির্দেশনায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছি, কিন্তু একটুও ক্লান্তি নেই। আমাদের হাত ধরে বাংলার এই ঐতিহ্য এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতেই গর্ব হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের ভোরে যখন এই বর্ণিল শোভাযাত্রা রাজপথে বের হবে, সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় আমরা সবাই অধীর হয়ে আছি।"


​আয়োজকরা জানাচ্ছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই শোভাযাত্রার মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপাদানকে আধুনিক রূপ দিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বরাবরের মতো সাধারণ মানুষের অনুদান ও চিত্রকর্ম বিক্রির অর্থ দিয়েই এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।


​পুরো চারুকলা এখন এক পশলা রঙের উৎসবের অপেক্ষায়। শিল্পীদের হাতের তুলিতে শেষ মুহূর্তের এই ছোঁয়া জানান দিচ্ছে—বাঙালি প্রস্তুত তার নববর্ষকে বরণ করে নিতে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?