- প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫১ পিএম
রাঙ্গাবালীত গুনে গুনে ঘুস নেন তহশিলদার সোবাহান
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
একটি জমির নামজারির জন্য সরকারি ফি এক হাজার ১৭০ টাকা। অথচ নামজারির জন্য পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুস সোবাহান হাজার হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন। তার ঘুস নেওয়ার একাধিক ভিডিও প্রমাণ যুগান্তরের হাতে এসেছে।
ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, ২০ মে তার কাগজপত্র দেখে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি দলিলের ২ একর ৪২ শতাংশ জমির নামজারি করতে তহশিলদার আবদুস সোবাহান প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। দরকষাকষির পর একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকায় তাদের সমঝোতা হয়। অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। দুই দফায় তিনি গুনে গুনে এ টাকা নেন। কিন্তু চারটি দলিলের বদলে দুটি দলিলের নামজারি করা হয়।
তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার দাবি, নামজারি ও দাখিলা বাবদ সব মিলিয়ে তিনি ২ হাজার ৬৭০ টাকা নিয়েছেন। ঘুস লেনদেনের ভিডিও দেখানো হলেও তিনি নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন।
এর আগেও আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খান জানান, উপজেলার মৌকরণে দায়িত্ব পালনকালে ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে সোবাহান ২০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি (সোবাহান) যে কাগজ তৈরি করে দিয়েছিলেন পরবর্তীতে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। টাকা ফেরত চাইলে উলটো তাদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে সোবাহানের করা মামলায় তার অপকর্মই উন্মোচিত হয়। নগদ পাঁচ লাখ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ উঠে আসে। মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।
আতিকুরের চাচা জাকির খান জানান, দূর-সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় সোবাহানকে তারা বিশ্বাস করেছিলেন। ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২৬ লাখ টাকা দাবি করেন সোবাহান। পরে তারা ২০ লাখ টাকায় রাজি হন। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণা করে জাল পর্চা করে দেন। এ ঘটনার পর তার বড়ভাই আফজাল খান (আতিকুরের বাবা) অসুস্থ হয়ে মারা যান। টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার দাবি, ওই অর্থ কোনো কাজের বিনিময়ে নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি তার শ্বশুরবাড়ির দলিলসংক্রান্ত পারিবারিক লেনদেন।
এদিকে, ৮ মার্চ রাঙ্গাবালীতে যোগদানের পর আবদুস সোবাহানকে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। তার প্রশাসনিক আইডিও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান বলেন, সোবাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের...
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর। আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে রংপুর বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ...
-
আব্দুল্লাহ জেলা প্রতিনিধিঃযশোরের শার্শা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সন্তান আবু হুরাইরা সাবিত মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!