অমর একুশে বইমেলায় খুবির সাবেক শিক্ষার্থী রানা মাসুদের তিন বই




খুবি প্রতিনিধি:সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি 


অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের ১৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ রানার তিনটি বই।



লেখালেখিতে তিনি রানা মাসুদ নাম ব্যবহার করেন।

তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ 'করিডোরের কান্না', গল্পগ্রন্থ 'ওথেলো সিনড্রোম' এবং নতুন উপন্যাস 'মধুমঞ্জরী'। সবগুলো বই প্রকাশ করেছে বায়ান্ন প্রকাশনী এবং এবারের মেলায় প্রকাশনীর ২৮৪ নম্বর স্টলে বইগুলো পাওয়া যাচ্ছে।



এবারের মেলায় আসা 'মধুমঞ্জরী' উপন্যাসটি একটি কিশোরী মেয়ের জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে লেখা। পরিবারহীন এক অনাথ কিশোরীর বেড়ে ওঠা, নিজের পরিচয় খোঁজা এবং নিয়তির অপ্রত্যাশিত মোড়ে জীবনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজের নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন এখানে ফুটে উঠেছে।



২০২৫ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'করিডোরের কান্না' বইটিতে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের সংগ্রাম ও আন্দোলন, শোষণ এবং ক্ষমতার রাজনীতি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত হতাশা, প্রেম-বিরহ এবং মৃত্যুচেতনাও কবিতাগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 



অন্যদিকে, ২০২৩ সালে প্রকাশিত 'ওথেলো সিনড্রোম' গল্পগ্রন্থে ব্যক্তিগত হতাশা, পারিবারিক টানাপোড়েন, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং শৈশবের উদ্বাস্তু স্মৃতির সমন্বয় ঘটেছে।



নিজের লেখালেখি সম্পর্কে রানা মাসুদ জানান, শখের বশে তাঁর লেখালেখির শুরু হলেও তিনি লেখার মধ্য দিয়ে একটি কল্পনার জগৎ তৈরি করতে পছন্দ করেন যেখানে সমাজের কোনো না কোনো প্রতিচ্ছবি থাকে। তাঁর বিশ্বাস, পাঠকদের মনে হতে পারে গল্পগুলো যেন তাঁদের নিজেদের জীবনেরই অংশ। 



তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সমকালীন রাজনীতি, মানবজীবনের সংকট এবং মৃত্যুচেতনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। যতদিন মানুষের জন্য বলার মতো কোনো বার্তা থাকবে, ততদিন তিনি লেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।



রানা মাসুদ বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজে শিক্ষকতা করছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন বায়স্কোপে নাটক নির্দেশনা ও অভিনয় করেছেন এবং প্রায় ১৭টির বেশি মঞ্চনাটকে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?