শিরোনামঃ

ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট পরিদর্শনে নদীবন্ধু সমাজ: নদী রক্ষায় সামাজিক ঐক্যের ডাক

​নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলের সঙ্গে মানুষের সখ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার করার অঙ্গীকার নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জলপথে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী নদীভ্রমণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি। ‘বাংলাদেশ নদীবন্ধু সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা স্বরূপকাঠি, ভীমরুলি ও পিরোজপুরের বিশ্বখ্যাত ভাসমান পেয়ারা হাট, নদীসংলগ্ন বাগান এবং লোকজ প্রযুক্তিতে গড়ে ওঠা শতাব্দীর প্রাচীন ‘ধাপ’ পদ্ধতির ভাসমান সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নদীপ্রেমী ও সুধীজনদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলটি জলপথে যাত্রা শুরু করে। ছোট ছোট খালের আঁকাবাঁকা পথে ডিঙি নৌকায় ভরা পেয়ারার ভাসমান হাট ও ধাপ চাষ পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নদী সুরক্ষার নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। নদীদূষণ প্রতিরোধ ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


​নদীবন্ধু সমাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণ কৃষ্ণ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপ। নদী ও মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাহাউদ্দিন গোলাপ বলেন, নদী কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক মানচিত্রের কোনো রেখা নয়; দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। নদীকে রক্ষা করার অর্থ হলো আমাদের নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা। নদীকেন্দ্রিক এ ধরনের পরিবেশবান্ধব আয়োজন বিনোদনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় বার্তাও পৌঁছে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট ও ধাপ চাষ পদ্ধতিকে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের অমূল্য রত্ন আখ্যা দিয়ে নদীদূষণ রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।


​সভাপতির বক্তব্যে প্রাণ কৃষ্ণ বিশ্বাস মনে করিয়ে দেন অকাট্য সত্য—‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব মোকাবিলা করে টিকে থাকার ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলের এই ভাসমান কৃষি একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা দখল ও দূষণে নদীগুলোর বিপন্ন দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঐতিহ্যবাহী ভাসমান কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সচল রাখতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।


​কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন এটিএন বাংলার পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মিলন, কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি দেবদাস মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফারুক হোসেন, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার এবং গ্রীন ফোর্সের সভাপতি এনামুল হকসহ বিভিন্ন পেশার সুধীজন। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ সচেতনতামূলক আয়োজন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?