নানা আয়োজনে যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
যবিপ্রবি (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬): আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, আলোচনা সভা, নবীন সদস্যদের বরণ, সাবেক সদস্যদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (যবিপ্রবিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও যবিপ্রবিসাসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে কেক কাটা ও একই ভবনের ডিজিটাল ক্লাসরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যবিপ্রবিসাসের সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ যবিপ্রবিসাসের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষসেরা প্রতিবেদক হিসেবে আরটিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আলফাজ হোসেন আরবি ও ঢাকা মেইলের মো. রকিবুল হাসান তারেককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বর্ষসেরা ফিচার লেখক হিসেবে দৈনিক এদিনের সাব্বির রহমান রাব্বিল এবং চ্যানেল আইয়ের মাহফুজুল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বর্ষসেরা উদীয়মান প্রতিবেদক হিসেবে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মো. সাব্বির আহমেদকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া যবিপ্রবিসাসের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদী ভূঁইয়াকে সংগঠনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যবিপ্রবিসাসের সাবেক সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও যবিপ্রবিসাসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “একটি দেশের জন্য সাংবাদিকতা যেমন পিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাংবাদিক সমিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয় সম্পর্কে আমাদের পক্ষে সবসময় জানা সম্ভব নয়, এটাই স্বাভাবিক। তাই আমি প্রত্যাশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো আপনারা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন। আমরা সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আপনারা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখবেন। এভাবেই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে পারব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নয়নমুখী পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিক সমিতিসহ সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিক সমিতি ক্যাম্পাসের কার্যক্রম, অর্জন, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, “সংবাদকর্মীদের জীবন নানা চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে।” তিনি যবিপ্রবিসাসের দীর্ঘ আট বছরের পথচলার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও সৎ, বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে যবিপ্রবিসাসের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও সুনাম বৃদ্ধিতে যবিপ্রবিসাস সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, অর্জন, গবেষণা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যবিপ্রবিসাসের প্রতিটি সদস্য তার কলম চালিয়ে যাবে। অন্যায়কারী ব্যক্তি যেই হোক, তার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক সমিতি কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং অন্যায়, দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সামনে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে সাংবাদিক সমিতি সদস্যরা তাদের কলম চালিয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ সকল অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যবিপ্রবিসাসের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।