- প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:২১ পিএম
কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীর মৃত্যুতে সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবারের শোক
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
গবেষক, ভাষাতত্ববিদ, ইতিহাসবিদ ও কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেছেন। তিনি গীতিকার, সুরকার ও দৈনিক দেশজগত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ।
গত বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ ১০টা ২৮ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
৬ মার্চ বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্থানীয় কবি লেখক সাংবাদিক ও সামাজকর্মীদের উপস্থিতিতে লাশ তার ছেলে আবির হাসান ইফতি,চট্টগ্রাম এর লেখক সাংবাদিক আরিফ, সিরাজগঞ্জ থেকে আগত কবি শরিফ খান ও পঞ্চগড় থেকে আগত আত্মিয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ৭ মার্চ শুক্রবার সকাল ন'টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এখানে সর্বস্তরের কবি লেখক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী সমাজকর্মী রাজনৈতিক নেতারা কবির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান, ২য় জানাজা রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালি উপজেলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিন রাত ১০.৩০ মিনিটে তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামে শহরের প্রাণকেন্দ্র লালখান এলাকার ঐতিহ্যবাহী মাওলানা মুফতি ইজহারুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে -এতরাতে এত মানুষের উপস্থিত প্রমাণ করে যে উনি সত্যি ভালো মানুষ ছিলেন। সহসাই সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম এই ব্যক্তির জন্য সকলের নয়ন ভিজিয়ে, হৃদয়ে অপূরণীয় শূন্যতা রেখা চলে গেলেন পরপারে। ওনার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মধ্য দিয়ে সমাহিত করা হলো এমন এক জায়গায় যেখানে ইসলামের ধর্মীয় বিশারদগনদের শেষ সজ্জা হয়।
ঐসব দ্বীনি মানুষের সাথে ওনার স্থানও জান্নাতে হোক।
উক্ত জানাজায় বৃহত্তম চট্টগ্রামের চেনা অচেনা শতাধিক কবি ও সাহিত্যিক উপস্থিত থেকে তাদের নিজ নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন যাকিনা এককথায় বললে দাঁড়ায় নিজামী ভাই একজন ভালো মানুষ ছিলেন।
উল্লেখ্য যে লেখক মাহমুদুল হাসান নিজামীর লেখা পাঁচ হাজারের অধিক কবিতা-গান আছে। যেগুলোর বিষয়বস্তু একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন। প্রতিটি লেখার স্বাদ সম্পূর্ণ নতুন।
এখন পর্যন্ত মাহমুদুল হাসান নিজামীর প্রকাশিত গ্রন্থ ১৪০টি । কবিতা, ছড়া, ইতিহাস ও গবেষণাসহ বিশ্ব সাহিত্যের শেখ সাদী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার ও ইমরুল কায়েসের কবিতাগুলোর বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম কাব্যানুবাদ মাহমুদুল হাসান নিজামীকে পরিচয় বিস্তারে অনন্য করে তুলেছে।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পর আরবী, ফার্সি, উর্দু, ইংরেজিসহ বহু ভাষা জানা মানুষ মাহমুদুল হাসান নিজামী ছাড়া দ্বিতীয়জন পাওয়া দুষ্কর। বহু ভাষার অলংকারে মাহমুদুল হাসান নিজামীর লেখা কবিতাগুলো বাংলা সাহিত্যে নবসংযোজন সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান নিজামী বাংলা সাহিত্য ও বানান সংস্কারের নবধারা তৈরিতে অনিবার্য প্রাণপুরুষ।
নিজ এলাকায় স্কুল কলেজসহ অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্টানের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান নিজামী ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। আর মা মরহুমা মায়মুনা খাতুন গৃহিণী ছিলেন।
এদিকে রংপুর জেলার সকল সাহিত্য সংস্কৃতিক সংগঠন এর পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনগুলো শোক বার্তা প্রেরণ করেছেন সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরিন নাজ বিভাগীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন রংপুরি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজিরা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক লেখক আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন, বিভাগীয় লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি জাকির হোসেন, ছড়াকার সাংবাদিক রেজাউল করিম জীবন, অভিযাত্রীক এর সভাপতি কবি তৈয়বুর রহমান বাবু, কবি মুসাফা আখতার বানু, কবি আহসান হাবিব রবু, কবি পূর্নিমা রাজ, রংপুর সাহিত্য একাডেমির কবি হাই হাফিজ,লেখক আমজাদ হোসেন সরকার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফ খান কিরন, সাংবাদিক বাপ্পি, সাংবাদিক রিয়্যজুল হক সাগর, সাংবাদিক জাকির হোসেন সুজন, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাবুল,কবি সাংবাদিক রুখসানা জামান সানু প্রমুখ।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী নিপীড়নের বিচার ও নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে...
-
ইউরোপ প্রতিনিধি:-আনহার বিন সাইদ বার্সেলোনায় গ্লোবাল জানালাবাদ এসোসিয়েশন স্পেন'রউদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল০৯মার্চ ২০২৬ইং রোজ রবিবার বার্সেলোনা শাহ জালাল জামে মসজিদে...
-
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে “নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন” শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকরেন।এই অনুষ্ঠানে নারী কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা সরাসরি উপস্থাপন করেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম বলেন, কৃষিক্ষেত্রে নারী কৃষকের অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় তারা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুবিধা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হন। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজ সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া একটি বড় বৈষম্য।এ বছরের নারী দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য এরাব ঃড় এধরহ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা এবং ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।স্থানীয় প্রতিনিধিরা নারী কৃষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।নারী কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। সেখানে নারী কৃষকেরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!