- প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০৩ পিএম
গলাচিপায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে প্রাণ গেল গাভিন গরুর, কান্নায় ভেঙে পড়লেন খামারি
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২ নং গোলখালী ইউনিয়নে কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে একটি চার মাসের গাভিন গরুর মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের একমাত্র আয়ের অন্যতম অবলম্বন হিসেবে লালন-পালন করা প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাভিন গরুটির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে খামারিদের মাঝে।
অভিযোগকারী গোলখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরসুহরী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ আলম মৃধার ছেলে মোঃ শাহীন মৃধা জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তাদের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গাভিন গরুটি হঠাৎ করেই স্বাভাবিকভাবে ঘাস খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি জুলেখা বাজারের একটি ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করেন।
শাহীন মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দোকানের ওষুধ বিক্রেতা ও নিজেকে পশু চিকিৎসক পরিচয়দানকারী বড়গাবুয়া গ্রামের মোঃ শাহ আলম তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্ষাকালে গবাদিপশুর এমন সমস্যা হয়ে থাকে এবং তিনি চিকিৎসা দিলে গরুটি সুস্থ হয়ে যাবে।
পরে তিনি বাড়িতে এসে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ইনজেকশন প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই গাভিন গরুটি ছটফট করতে শুরু করে, মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহীন মৃধা বলেন, “গরুটি মারা যাওয়ার পর আমি তাকে বিষয়টি জানাই। তখন তিনি বলেন, ‘আমি কী করমু? আমার কিছু করার নাই’, এরপর মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।”
এদিকে একই গ্রামের মোঃ জলিল প্যাদার পরিবারও অভিযোগ করে জানায়, একই ব্যক্তির চিকিৎসার পর তাদের গরুর বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারটির দাবি, গাভিন গরুটি ছিল তাদের সংসারের প্রধান আয়ের উৎস। গরুটির মৃত্যুতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকার মানুষ ভুক্তভোগীর বাড়িতে ভিড় করেন। স্থানীয় খামারিদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ শাহ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ শাহ আলম একসময় গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও সচেতন মহল।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!