- প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৩৫ পিএম
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা মোল্লা ওরফে মুহিন হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় মো. শাওন মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো: আমিন উদ্দিন ও মো.শিহাব মোল্লা। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মো. শাওন মোল্লাকে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. লিয়াকত আলী মোল্লা ওরফে লিকুকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আসামিরা আদালতে উপস্থিত খাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
তবে এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় লিয়াকত আলী মোল্লা ওরফে লিকুকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে।
ভিকটিমের বাবা ও মামলার বাদী মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই মামলার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি বলে মনে করি। আমি চাই, আদালতের দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ রায় ঘোষণা করেছেন। একটি ১২ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। আদালত যে রায় ঘোষণা করেছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রায়ের বিভিন্ন দিক উচ্চ আদালতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে মামলাটি পুনর্বিবেচনার পর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং আসামিপক্ষ তাদের আইনি প্রতিকার পাবে।’ #
এই বিভাগের আরো খবর
-
সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃজলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব জীবিকা উন্নয়ন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বরগুনায় রেসকোস্ট প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের নতুন ও কনিষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষাদান...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠিঝালকাঠি সদর উপজেলায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় জনতার হাতে কামাল মাঝি ও রুবেল হাওলাদার নামে দুইজন আটক হয়েছেন।...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!