শিরোনামঃ

জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ও জনঅংশগ্রহণের দাবি বরিশালে


বাংলাদেশের জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বরিশালের নাগরিক সমাজ ও পরিবেশকর্মীরা। মঙ্গলবার বরিশাল প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জনসংহতি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। প্রান্তজন ট্রাস্ট, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বরিশাল এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিডব্লিউজিইডি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ (অব.) মো. আমিনুল ইসলাম খোকন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনজীবন ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি স্বার্থ বা পরামর্শের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা, সক্ষমতা ও জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বরিশালের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুভাষ দাস বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সংগঠনটির সদস্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রণয়ন করা উচিত নয়। নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনার খসড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে উন্মুক্ত আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার, জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ (অব.) মো. আমিনুল ইসলাম খোকন বলেন, দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ও দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো জ্বালানি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়। গণমুখী, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘জ্বালানি মহাপরিকল্পনা, জাপান না, বিদেশি না—জাতীয় পরিকল্পনায় চাই জাতির অংশগ্রহণ’ স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও কার্যকর জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?