শিরোনামঃ

গাছ কাটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: প্রতিপক্ষের হামলায় পিতা-পুত্র গুরুতর জখম, শেবাচিমে ভর্তি

 বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় গাছ কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় মোঃ বাবুল আকন (৫৬) ও তার তরুণ ছেলে মোঃ সাকিব আকন (৩৩) গুরুতর জখম হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আজ বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের তালাপ্রশাদ মসজিদ বাড়ী এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বাবুল আকন ওই এলাকার মৃত আজাহার আলী আকনের ছেলে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তালাপ্রশাদ মসজিদ বাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গাছ কাটা ও সীমানা নিয়ে বাবুল আকনের সাথে স্থানীয় মৃত মুজাহার আকনের ছেলে মোঃ শহিদ আকনের বিরোধ চলছিল। আজ সকালে সেই বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শহিদ আকনের নেতৃত্বে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম, দুই ছেলে মোঃ সাব্বির আকন ও সায়েম আকনসহ প্রায় ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।


হামলাকারীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিতা-পুত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মাটিতে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের শরীরে গুরুতর জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।


এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আহত সাকিবের চাচাতো ভাই স্বপন আকন বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে স্বপন আকন বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শহিদ আকন ও তার পরিবারের লোকজন দলবল নিয়ে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমার চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃসংশভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিকে যেন দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।


এ বিষয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?