শিরোনামঃ

দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান

দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নারী, শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা, অধিকার ও প্রয়োজনভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব ও কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। মঙ্গলবার বরিশাল নগরীর বিডিএস কনফারেন্স হলে দুর্যোগের আগে, দুর্যোগ চলাকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন-ভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিফট এশিয়া: এশিয়ায় নারীবাদী রূপান্তরের জন্য মানবিক উদ্যোগকে সহায়তা (বাংলাদেশ) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সভায় সহযোগিতা করে অক্সফাম এবং বাস্তবায়ন করে আভাস।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. সাইদুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন্নেসা মুন্নি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শাহাজাদী আক্তার, বরিশাল জেলা ত্রাণ উপ নির্বাচন কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার দাস এবং সেইন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবীর।
বক্তারা বলেন, দুর্যোগের সময় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও পুনর্বাসন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবিকা পুনরুদ্ধারেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন



সভায় যেসব সুপারিশ উঠে আসে
মনোসামাজিক সেবা ও সচেতনতা: দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে মনোসামাজিক কাউন্সেলিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো। নারীবান্ধব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি: স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর নারীবান্ধব কমিটি গঠন করা। নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার: নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও বয়স্কদের নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও সংস্কার করা। নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক দুর্যোগ বাজেট: জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট দুর্যোগ বাজেট বরাদ্দ রাখা। কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা: কর্মকর্তা বদলি, অপসারণ বা ব্যক্তি পরিবর্তনের কারণে যাতে কার্যক্রমের গতি ও ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জীবিকায়ন: দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জীবিকা পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। জেন্ডার-ভালনারেবল নারীদের জরুরি সেবা: নারী ও শিশু ডেস্কের মাধ্যমে জেন্ডার-ভালনারেবল নারীদের জরুরি সেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, নারী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণকে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?