- প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৫ ০১:৩৮ পিএম
ছেলের জন্য শিঙাড়া আনতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ যায় জাহাঙ্গীরের
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
২০ জুলাই, ঠিক এক বছর আগে—এই দিনেই পুলিশের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের সন্তান সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর খান (৪০)। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার দনিয়া যাত্রাবাড়ীর ছনটেক এলাকায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেদিন রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন তার লাশ গলাচিপায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।
জাহাঙ্গীর আমখোলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাউরিয়া এলাকার মৃত রত্তন আলী খানের ছেলে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া জাহাঙ্গীর যুবক বয়সে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমায় ঢাকায়। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত সিএনজি চালকের কাজটি বেছে নেয়। ব্যক্তিগত জীবনে জাহাঙ্গীর হোসেন পাঁচ সন্তানের জনক। প্রথম স্ত্রী মৃত্যুর পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মমতাজ বেগমের সঙ্গে। সবকিছু ভালোভাবে চলছিলো কিন্তু হঠাৎ করে কোটা আন্দোলন ও একটি গুলি সবকিছু এলোমেলো করে দেয়।
এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সময় থেমে আছে তার পরিবারের। থমকে আছে পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ, স্ত্রীর চোখের জল আর মুছে যায়নি গেঞ্জিতে লেগে থাকা সেই রক্তের দাগ।
'শিঙারা আনতে গিয়ে বাবাকে হারালাম'
স্মৃতিচারণে জাহাঙ্গীরের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, '২০ জুলাই দুপুরে ছোট ভাই শিঙারা খেতে চাইলে আমি আর বাবা নিচে ছনটেক গলির দোকানে যাই। সেদিন কারফিউ চলছিল আর রাস্তায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলো। আমরা শিঙারা নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ পুলিশ গলির মধ্যে গুলি ছোড়া শুরু করে। সবাই দৌড়াচ্ছিল, আমি আর বাবা গলির মধ্যে আটকে পড়ি। এসময় বাবার মাথায় গুলি লাগে, তিনি রাস্তার ওপর পড়েছিলেন—আমি রক্তমাখা গেঞ্জি দেখে তাকে চিনতে পারি। পুলিশ চলে গেলে আমি চিৎকার দিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরি। অনেক কষ্টে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই কিন্তু বাঁচাতে পারিনি। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার আগেই তিনি অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলেন।'
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, 'আমার স্বামীই ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম। সে আজ নেই—আমরা আর কিভাবে বাঁচবো? আমি ঢাকায় বাসায় কাজ করি, বড় ছেলে একটা কোম্পানিতে সামান্য চাকরি করে। এক মেয়ে এবার এসএসসি দিলো, দুই ছেলে এখনো স্কুলে পড়ে। আড়াই বছরের একটা মেয়ে আমার কোলে।'
এদিকে জাহাঙ্গীরের রয়েছে আগের স্ত্রীর ঘরের আরও তিন সন্তান—দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তারা গলাচিপার আমখোলায় থাকেন। বড় ছেলে ও মেয়ের বিবাহ হয়েছে। ওরাও ভালো নেই, আমরা কেউই ভালো নেই। আমরা সরকারকে অনুরোধ করি—আমাদের পাশে দাঁড়ান। শুনেছি সরকার সহায়তা করবে, এখনো আশায় আছি—বলেন রবিউল।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা আজো নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। কিন্তু তাদের পরিবারগুলো আজও বাঁচার লড়াইয়ে ক্ষতবিক্ষত। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর সঙ্গে একটি পরিবার, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎকেও থামিয়ে দিয়েছে। আজ এক বছর পরেও যখন জাহাঙ্গীরের ছেলেমেয়েরা সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন যে কত মানুষের জীবনে শূন্যতা এনেছে—তার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শহীদ জাহাঙ্গীরের মতো অসংখ্য পরিবার।
এই বিভাগের আরো খবর
-
রাহাদ সুমন:কম খরচে অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ। চলতি ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের...
-
খুবি প্রতিনিধি: সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিল ০৩ মার্চ (মঙ্গলবার) নগরীর হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল এ...
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে জেলা...
-
ইন্দুরকানী উপজেলা প্রতি নিধি ঃ ৪ নং নবগঠিত ইন্দুরকানী ইউনিয়ন ১ নং চাড়াখালী ওয়ার্ড । এলজি,ই,ডি ব্রিজের উপর ও রাস্তার...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!