শিরোনামঃ

ছাত্রদল নেত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


ওয়াহিদ-উন-নবী,ববি প্রতিনিধি


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের ফেসবুক পেজ ‘Linkers in Barishal University’-তে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিডিও পোস্ট করা হয়। ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে আর.এইচ রিফাত নামে এক ব্যক্তি মিছিলের সামনের সারিতে থাকা একমাত্র নারী ছাত্রদল নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


ছাত্রদল নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিফাত লিখেন, “ভবিষ্যৎ নেতাদের খাবার সামনে।”


অভিযুক্ত আর.এইচ রিফাত বরিশালের বন্দর থানাধীন চরকরঞ্জী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ওই নেত্রী মরিয়ম খাতুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে সংগঠনের ফরম সংগ্রহ করেন।


অভিযুক্ত রিফাত বলেন, তিনি নারী নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি। তাঁর ভাষ্য, “আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম ভবিষ্যতে নেতারা দেশের সম্পদ নষ্ট করবে। বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে বলেছিলাম।” তবে তিনি ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন ও বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল এটা। ভবিষ্যতে এমন কিছু আর কখনো করবো না।”


ঘটনার পর শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভুক্তভোগী মরিয়ম খাতুনকে সাক্ষী রেখে মো. আরিফ হোসেন বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘৬ নভেম্বর Linkers in Barishal University পেজে ছাত্রদলের কর্মসূচির ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী সদস্যকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন, যা নারী সদস্যদের মানহানি ঘটায়।’


উল্লেখ্য, ওই ফেসবুক পেজে আগে থেকেও রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে সমালোচনার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পেজটিতে প্রায়ই যাচাইবাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও কুতথ্য ছড়ানো হয়।


পেজটির প্রশাসক মোকতাদির রিজভী বলেন, “আমরা কারও বাজে মন্তব্য ঠেকাতে পারি না। তবে কেউ এমন মন্তব্য করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যান করা হয়। ভুক্তভোগী যদি আইনি পদক্ষেপ নেন, আমরা সহযোগিতা করবো।”


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজমাইন সাকিব বলেন, “এক নারী নেত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন মন্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। পরিকল্পিতভাবে পুরোনো ভিডিও ঘিরে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এটি নারী বিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।”


ছাত্রদলের নারী নেত্রী তাওহিদা রহমান রাকা বলেন, “নারী রাজনীতিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুধু ব্যক্তিকে নয়, নারী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রকেও অপমান করে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি হোক নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মানের ভিত্তিতে।”


ভুক্তভোগী মরিয়ম খাতুন বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর এমন ঘটনা বেদনাদায়ক। নতুন বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বকে ছোট করে দেখা দুঃখজনক। আমি ন্যায়বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর সাইবার বুলিংয়ের সাহস না পায়।”


বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?