শিরোনামঃ

বোরহানউদ্দিনে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে সুশীলনের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত


মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবী ইউনিয়ন পরিষদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১০ আগস্ট সোমবার ও গতকাল ৯ আগস্ট রবিবার ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় পরিচালিত “মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।


প্রশিক্ষণে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সচেতন অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল জনসম্পৃক্তকরণ, সামাজিক জবাবদিহিতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive Parenting)। প্রশিক্ষণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের যত্ন, শিশুর টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বয়স অনুযায়ী মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, শারীরিক ও মানসিক শাস্তি পরিহার এবং পরিবারে শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে অভিভাবকদের ধারণা দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে পরিবার, কমিউনিটি, জনপ্রতিনিধি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।


প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে একটি করে Parent Education Package প্রদান করা হয়। এসব শিক্ষা ও সহায়ক উপকরণ অভিভাবকদের প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান পরিবারে প্রয়োগ এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবে বলে আয়োজকরা জানান।


প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী জনাব মোঃ সজীব রহমান ও ট্রেনিং অ্যান্ড মনিটরিং অফিসার মারুফা সুলতানা। প্রশিক্ষণটির মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট অফিসার ইয়াসমিন জাহান।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টগবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন হাওলাদার। তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশুদের সুস্থ বিকাশ এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা জোরদারে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।


আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা নিজ নিজ পরিবার ও কমিউনিটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশু সুরক্ষা, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা গ্রহণে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদার করতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।


শিশুর সুস্থ বিকাশ, মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবারে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?