শিরোনামঃ

বাকেরগঞ্জে পুকুর নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: দুই দফায় নারীসহ আহত ১০, নেপথ্যে হেলাল খানের স্বেচ্ছাচারিতা!



নিজস্ব প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১ নং চড়ামদ্দী ইউনিয়নে পৈত্রিক সম্পত্তির পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে দুই দফায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম চড়ামদ্দী এলাকার ঐতিহ্যবাহী খান বাড়িতে ঘটা এই হামলায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। 

২৬শে মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের দুপুরে এবং রাতে পৃথক দুটি হামলায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে উভয় পক্ষ।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খান বাড়ির শরিকানা (এজমালি) পুকুরের মাছ চাষ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জাহাঙ্গীর খানের ছেলে ছাহিম খানের দাবি, গত দুই বছর ধরে মৃত মোজাম্মেল হোসেন খানের ছেলে চাচাতো ভাই হেলাল খান এককভাবে পুকুরটি ভোগদখল করে আসছেন। এ বছর ছাহিম খান মাছ চাষে নিজের হিস্যার কথা জানালে হেলাল খান ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।


দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদের একপর্যায়ে প্রতিবেশী নাসির খানের ছেলে মেহেদী হাসান পুকুরে গোসল করতে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। মেহেদী যুক্তিসঙ্গত কথা বলে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করলে হেলাল খান উত্তেজিত হয়ে তাকে আক্রমণ করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলাল খান ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম মিলে মেহেদীকে জাপটে ধরে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। আহত মেহেদী ও তার পিতা নাসির উদ্দিন আইনি সহায়তার জন্য বিকেলে থানায় গেলে, সেই সুযোগে রাতে দ্বিতীয় দফায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, রাত আনুমানিক ৭টার দিকে হেলাল খানের প্রত্যক্ষ মদদে তার তিন শ্যালিকা রেশমি, ময়না বেগম, খুকু এবং মেয়ে জান্নাতসহ একদল সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা ছাহিম খানের মা এবং প্রতিবেশী নজরুলের স্ত্রী কল্পনার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়। উল্লেখ্য, কল্পনা বেগমের সঙ্গে হেলাল খানের পূর্ব থেকেই একটি নারী নির্যাতন মামলা চলমান রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, হেলাল খান দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির শরিক ও প্রতিবেশীদের ওপর জুলুম চালিয়ে আসছেন। তার অত্যাচারে পুরো বাড়ির সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি শরিকদারদের। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নিজের অপরাধ ঢাকতে হেলাল খান এখন সমাজসেবক জহিরুল ইসলাম লিটনকে ‘ইন্ধনদাতা’ সাজিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।


নাসির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মূল ঘটনা আড়াল করতে জহিরুল ইসলাম লিটন সাহেবকে হুকুমদাতা বানিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরা হামলা চালিয়ে এখন আমাদের ফাঁসাতে চাইছে।"


তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল খান দাবি করেন, জহির উদ্দিন লিটনের নির্দেশেই নাসির ও তার পরিবার তাদের ওপর হামলা করেছে এবং এতে তার পরিবারের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন।


দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন জহিরুল ইসলাম লিটন। পারিবারিক ও সামাজিক প্রয়োজনে দেড় বছর পূর্বে তিনি একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও গ্রামের যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় সুপরিকল্পিতভাবে তার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জহিরুল ইসলাম লিটন জানান, তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ ঢাকা কেন্দ্রিক জীবনযাপন করছেন। তার দাবি, তার ভাই হেলাল খান গ্রাম এলাকায় প্রায়শই 'মব' বা উশৃঙ্খল জনতা তৈরি করে নানাবিধ অস্থিতিশীল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কোনো হামলার বিষয়ে লিটন সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ব্যক্তি স্বার্থ বা বিবাদ নয়, বরং তার মূল লক্ষ্য পরিবারের সম্মান রক্ষা এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। কোনো বিশেষ মহলের উস্কানি বা মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সোহেল রানা জানান, "হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে হেলাল খানের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে খান বাড়ির সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?