সংবিধান ও সাংবিধানিক পদ গুলোকে অপমানিত করে জাতি সন্মানিত হতে পারে না - আরিফ রহমান
রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা একে অপরকে যেভাবে অপদস্ত এবং অপমান করছে তাতে অপদস্ত হয় পবিত্র সংবিধানের অধিনের সন্মানিত পদগুলো।
প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গণহারে মামলা দায়ের দাগি আসামিদের মত কোর্টে হাজির করার যে কালচার আবার নতুন করে শুরু হয়েছে এই অশুভ আদিম কালচার থেকে বের হতে না পারলে ভবিষৎ রাজনীতিতে সংকট আরো বাড়বে । রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা আরও কলুষিত হবে । ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসবে ।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় তাইতো তো সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন গ্রেফতার হলেন ,তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো যেনো গণ না হয় যাতে জনমনে প্রশ্নের জন্ম না হয়। ভবিষৎ কে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনদের এটা মনে রাখতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকে যারা বিতর্কিত ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন তারাও বিশ্বাস করেন যে, তাদের অন্তর আত্মা ভিন্ন কথা বলে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানে বন্দি কালে তাঁকে নেতা মেনে যারা নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ কে স্বাধীন করেছিলো তাদের উপর সম্পূর্ণ ভাবে ন্যায় বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন,যা কম-বেশি প্রমাণিত ।
কিন্তু তাই বলে তাঁকে এভাবে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হতে হবে সেটাও সমর্থন যোগ্য নয় ।
শেখ মুজিব হত্যায় যদি রাজনীতি পবিত্র হতো তাহলে পরবর্তীতে একেরপর এক হত্যাযজ্ঞ সহ মুক্তিযুদ্ধের আরেক মহানায়ক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হতো না। সত্যিকারের ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়োজন হতো না । সচেতন মহলের হৃদয়ের রক্তক্ষরণের বিষয় হলো যারা বাংলাদেশে রাজনীতি করেন তাদের নিজেদের এবং তাদের পরিবার পরিজনের যে ত্যাগ তার মূল্য কি নির্মম মৃত্যু , জেল জুলুম , অপমান জনক ভাবে গ্রেফতার এবং নির্মম নির্যাতন । ???
ক্ষণিককাল পূর্ব ও বর্তমান কালে নতুন সংযোজন রাজনীতিবিদদের দাগি আসামির মত অপমান জনক ভাবে রিমান্ড ও আদলতে উপস্থাপন করা । কেউই আমরা আইনের উর্ধ্বে নই সেটা যেমন সঠিক পাশাপাশি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে এক দল আরেকদলের রাজনীতিবিদদের অপমান করতে গিয়ে সংবিধানের সন্মানিত পদ গুলোকে অপদস্ত করছেন কিনা সেটা ভাবা উচিত । এভাবে চলতে থাকলে মেধাবি এবং সৎ মানুষেরা রাজনীতিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে ।
সর্বশেষ ২০২৪ এর গণআন্দোলনের কারণ এবং আন্দোলনের অর্জন এবং ভবিষৎ নিয়ে কিছু কথা :
১।কেন আন্দোলন প্রয়োজন ছিলো: শেখ হাসিনার অতিমাত্রার স্বেচ্ছাচারিতা , নিজেকে এবং তার পরিবারকে বাংলাদেশের মালিক ভাবা , মুক্তিযুদ্ধকে পারিবারিক অর্জন হিসেবে ভাবা , আওয়ামী পরিবারের অতিমাত্রার দুর্নীতি , কথায় কথায় ভিন্ন মতাবলম্বীদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া , আওয়ামী লীগ ছাড়া ভিন্ন মতাবলম্বীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবা । জামাত পন্থি এবং বিএনপি পন্থিদের কে সম্পূর্ণ ভাবে অগ্রাহ্য করা , জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে দেওয়া । এবং অতিমাত্রায় ভারত প্রীতির পলিসি গ্রহণ করা ।
২। ২০২৪ আন্দোলন ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগের অপমৃত্যু : আন্দোলনের সাথে থাকা জামায়েতপন্থি ছাত্ররা জামাত নেতাদের কাছে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহৃত হওয়া। জামায়েত এদেশে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেয়েও অতিমাত্রায় ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাওয়া । যা এদেশের স্বাধীনতার পক্ষের বেশিরভাগ মানুষ ভালোভাবে নিতে পারেনি ।
২। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে কোনও পরিকল্পনা ছাড়া সরকার প্রধান হয়ে জামায়েত ও ইসলামপন্থি ছাত্রদের কাছে নিজেকে সপে দিয়ে আওয়ামী আমলে তার উপরে যে অন্যায় অবিচার হয়েছিলো সেগুলোর প্রতিশোধ নিতে ছাত্রদেরকে বিপদগামী হওয়ার সুযোগ এবং উস্কানি দেওয়া । চরম স্বার্থপরের মত দেশ এবং জাতীর স্বার্থকে বিলীন করে তার নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো হাসিল করার জন্য ছাত্রদেরকে বিপদগামী করা । তিনি বাংলাদেশে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সুযোগকে হাতছাড়া করলেন।
৩। এদিকে জনপ্রিয় দল এদেশের মধ্যপন্থি মানুষের আশ্রয়স্থল বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়েত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল অন্যায় কর্মকাণ্ড কে কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে আবার এদেশের পুরানো রাজনৈতিক ধারায় গা ভাসিয়ে দিলেন, এভাবে একটা দেশ বেশি দিন ভালো ভাবে চলতে পারেনা বলে মনে করেন সিনিয়র সিটিজেন ও সুশীল সমাজ।