শিরোনামঃ

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড, বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা



নিউজ ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, সাবেক পুলিশ কমিশনার ও প্রক্টরসহ বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মূল সাজাপ্রাপ্তরা

মৃত্যুদণ্ড: রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

দশ বছরের কারাদণ্ড: বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ড: সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

তিন থেকে পাঁচ বছরের সাজা: বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীমসহ কয়েকজন। স্বাচিপ নেতা ডা. সারোয়াত হোসেন চন্দন পাচ্ছেন পাঁচ বছর।

খালাস: প্রক্টর অফিসের কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।”

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র সাঈদের ওপর গুলিবর্ষণ পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে সেই কলঙ্কিত অধ্যায় বন্ধ হলো।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?