শিরোনামঃ

সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারা    গোপালগঞ্জে কৃষকের গোয়াল থেকে তিনটি গরু নিয়ে গেলো সুদি মহজন



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের আট্টরা বাড়ী গ্রামের দারিদ্র কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী। ৮ বছর আগে মেয়েকে বিদেশ পাঠানোর সময় প্রতিবেশী মৃত মজিদ গাজীর ছেলে সুদি মহাজন আবুল গাজী কাছে থেকে সুদে ৩৫ হাজার টাকা নেন। কথা হয় ৩৫ হাজার টাকায় সুদ হিসেবে দিতে হবে প্রতি বছর ১৭ মন ধান| দারিদ্র কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী প্রথম বছর ১৬ মন ধান সুদ হিসেব পরিশোধ করেন|


কিন্তু এরপরই তার সেজ মেয়ে সায়মার দেখা দেয় দুরারোগ্য অসুখ। যার কারনে সুদের টাকা বা ধান দিতে না পারায় প্রতি বছর চক্র বৃদ্ধি হারে সেই সুদের টাকা যোগ হয় আসল টাকায়|


ফলে সুদের টাকা আর দিতে না পারায় বুধবার (২২ এপ্রিল) আবুল হোসেন গাজী ও তার স্ত্রী এবং সন্তানরা দারিদ্র কৃষক আলতাফ হোসেন গাজীর বাড়ীতে এসে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুদের টাকার জন্য আলতাফ হোসেন গাজীর গোয়াল ঘর থেকে দুটি গরু ও একটি দুধের বাছুর নিয়ে যায়।


এ ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলেছে আলোচনা আর সমালোচনা। 


কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী বলেন, এ পর্যন্ত ১৬ মন ধানসহ এক কিস্ততে ৮৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫৫ হাজার টাকা, তৃতীয় কিস্তিতে ১ লাখ টাকা এবং তারপরে আরো ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। আট বছরে ৩৫ হাজার টাকার সুদে প্রায় তিন লাখ ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করার পর সুদি মহাজন আবুল গাজীর দাবী এখনও সাড়ে তিন লক্ষ টাকা|


তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে আমি পাশের গ্রাম থেকে দুটি গরু বরগা এনে লালন পালন করি। সুদের টাকা নিতে বুধবার রাতে আবুল হোসেন গাজী, তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ীতে এসে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গোয়াল ঘর থেকে দুটি গরু ও একটি দুধের বাছুর নিয়ে যায়।


অভিযুক্ত, আবুল হোসেন গাজীর বাড়ীতে গিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে দেখা মিলছে গুরু তিনটি| এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে আবুল হোসেনকে তার বাড়ীতে পাওয়া যায়নি| তবে আবুল হোসেন গাজীর স্ত্রী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা চার লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করার কারনে আমরা গরু নিয়ে এসেছি। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?