সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছে একই মাঠে মসজিদ


মন্দির


হাসান মাহমুদ:


একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির। এক পাশে আতরের সুঘ্রান, অন্যপাশে ধূপকাঠি। এক পাশে নামাজ পড়ছেন মুসল্লীরা, অন্য পাশে পূজা দিচ্ছেন পূজারিরা। এভাবেই অর্ধ শতাব্দী ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা এলাকার শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। ধর্ম ভিন্ন হলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির অটুট বন্ধন দীর্ঘদিনের।

সরেজমিন দেখা গেছে, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও জাকজমকপূর্ন ভাবে ওই স্থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরোধতো দূরে থাক, স্থানীয় মুসলিম নর-নারীরা প্রতিবেশী হিন্দুদের পুজা উদ্যাপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সরেজমিনে আরও জানা গেছে, দুই সম্প্রদায়ের আলাদা ধর্মীয় উপসনালয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে প্রায় ৫০ বছর ধরে চলছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দুর্গা পুজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, উলু, শঙ্খধ্বনি আর সন্ধ্যায় হয় আরতি অনুষ্ঠান। তবে মসজিদে আজান শুরু হলেই নীরবতা বজায় রাখেন পূজারি, ভক্তরা। নামাজ শেষ হলেই আবার শুরু হয় পূজার্চনা।

মন্দিরের পূজারি স্বপন ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, মসজিদে আজান শুরু হলেই আমরা পুরো অনুষ্ঠানের বিরতী দেই। নামাজ শেষে আবার আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের মধ্যে ভ্রাতিত্বপূর্ণ এ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখানে কেউ কারো জন্য বিরক্তির কারণ হননি কখনই। বরং দুই ধর্মের অনুসারীরা আগলে রেখেছেন তাদের এই পবিত্র দুটি স্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ মৃধা জানান, এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। আমাদের পূর্ব-পুরুষরাও এমনটিই করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তারা পূজা দেখতে মন্ডপে যান। আবার ঈদে কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানেও আসেন হিন্দু প্রতিবেশীরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে আমরা আধুনা শেনের বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে পূজা করে আসছি। মন্দিরের মাত্র দশ ফুট দূরত্বে অবস্থিত জামে মসজিদে মুসলমান ধর্মের লোকজন তাদের ধর্ম পালন করে আসছেন। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই এই মসজিদ আর মন্দির ধরে রেখেছে সম্প্রীতির বন্ধন, সেই বন্ধন গড়ে তুলেছে ঐতিহ্য। চলছে মুসলিম-হিন্দু ধর্মীয় নানা কর্ম আর আনুষ্ঠানিকতা। এখানে কারো মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের কোনও চিহ্ন নেই।

আধুনা শেনের বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। শান্তিপূর্ন ভাবে সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এখানে যে যার ধর্ম পালন করেন। কেউ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির কারন হয়নি কখনো।

এবিষয়ে নবাগত গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম বলেন, আজই (২৯ সেপ্টেম্বর) আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। যোগদানের পরপরই পূজা মন্ডপগুলোর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামে একইস্থানে মসজিদ-মন্দির দীর্ঘবছর ধরে ওই এলাকায় সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছে। যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদহারণ। তিনি আরও বলেন, আমরা এধরনের সমাজ ব্যবস্থাই চাচ্ছি। যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?