- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৪ পিএম
আন্তর্জাতিক নারী দিবস : ‘আভাস’ ও ‘সিফট এশিয়া’ প্রকল্পের নারীবাদী সংলাপ
“আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার,
সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”
এই
প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬
উদযাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আভাস’ (AVAS)। সিফট এশিয়া (SHIFT Asia)
প্রজেক্টের আওতায় এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জনাব রজিত
কুমার সরকার।
অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন আভাসের নির্বাহী পরিচালক জনাব রহিমা সুলতানা কাজল। উদযাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অক্সফাম প্রোগ্রাম কোঅর্ডনেটর শাহাজাদী
বেগম, ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা আক্তার অন্তরা, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য
রাখেন ব্লাস্ট (BLAST) সমন্বয়কারী জনাব
সাহিদা তালুকদার এবং নারী ও শিশু ডেক্স অফিসার বরিশাল কোতয়ালী থানা জনাব
রুমা পারভীন।
সকাল ১০টায়
অতিথিদের আসন গ্রহণ ও পরিচয় পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সিফট এশিয়ার প্রকল্পের
প্রোগ্রাম সমন্ময়কারী আফরোজা বিলকিছ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, "দুর্যোগ এবং সামাজিক ও
পারিবারিক সকল সহিংসতা মোকাবিলায় নারীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের যাত্রা এখন
সময়ের দাবি।"
অনুষ্ঠানের মূল
অধিবেশনে অক্সফাম-এর প্রোগ্রাম সমন্ময়কারী শাহাজাদী বেগম নারীর অধিকার, সমতা ও
নেতৃত্বের বিকাশ ও নারীবাদী মানবিক উদ্যোদগুলোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সিনিয়র
প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা আক্তার অন্তরা সিফট এশিয়া প্রকল্পের আলোকে দিবসের
তাৎপর্য তুলে ধরেন। এরপর এক মুক্ত আলোচনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপট,
মানবিক কর্মকাণ্ড এবং নারীর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা
হয়।
বিশেষ আকর্ষণ
হিসেবে ছিল “তারুণ্যের ভাবনা” সেশন। যেখানে ইয়াং উইমেন লিডার ফোরামের সদস্য
জান্নাতুন নাঈম ঐশির পরিচালনায়
তরুন ভলান্টিয়ারদের সমন্ময়ে তারুণ্যের চোখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন ও দেয়াল
লিখন কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এছাড়া “দেয়ালের এপার ওপার” শীর্ষক
আন্তঃপ্রজন্মীয় নারীবাদী সংলাপে অভিজ্ঞ ফেমিনিস্ট অ্যাক্টিভিস্ট এবং তরুণ
নেতৃত্বের মধ্যে সফলতার গল্প ও সমস্যা মোকাবিলা নিয়ে এক রিয়েলিটি শো-ভিত্তিক
আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির
বক্তব্যে জনাব রজিত কুমার সরকার বলেন, "মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়
নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের সমাজকে আরও টেকসই করে তুলছে। সিফট এশিয়া প্রকল্পের
এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।"
অনুষ্ঠান শেষে
একটি বিশেষ ফটো এক্সিবিশন আয়োজিত হয়, যেখানে মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায়
নারীর বলিষ্ঠ ভূমিকার ছবি প্রদর্শিত হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে দুপুর
২টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী নিপীড়নের বিচার ও নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে...
-
ইউরোপ প্রতিনিধি:-আনহার বিন সাইদ বার্সেলোনায় গ্লোবাল জানালাবাদ এসোসিয়েশন স্পেন'রউদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল০৯মার্চ ২০২৬ইং রোজ রবিবার বার্সেলোনা শাহ জালাল জামে মসজিদে...
-
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে “নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন” শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকরেন।এই অনুষ্ঠানে নারী কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা সরাসরি উপস্থাপন করেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম বলেন, কৃষিক্ষেত্রে নারী কৃষকের অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় তারা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুবিধা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হন। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজ সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া একটি বড় বৈষম্য।এ বছরের নারী দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য এরাব ঃড় এধরহ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা এবং ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।স্থানীয় প্রতিনিধিরা নারী কৃষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।নারী কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। সেখানে নারী কৃষকেরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!