শিরোনামঃ

শবে বরাত: ক্ষমা, দোয়া ও দায়িত্ব—শবে বরাতের অন্তর্নিহিত বার্তা”


শাকিব উল হক 

নিজস্ব প্রতিনিধি।


আজ পবিত্র শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী শাবান মাসের ১৪ তারিখের এই দিবাগত রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে ‘লায়লাতুল বারাকাত’—সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। 


ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন। মানুষের আগামী এক বছরের ভাগ্য—জীবন, মৃত্যু ও রিজিকের ফয়সালাও এই রাতে নির্ধারিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।


শবে বরাতের মূল চেতনা আত্মশুদ্ধি। ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের টানাপোড়েন থেকে কিছুটা সরে এসে নিজের ভুলত্রুটি পর্যালোচনা করা, আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ নেওয়াই এই রাতের প্রধান শিক্ষা।


হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এ রজনীতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। তাই নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে তওবা করা এবং সুন্দর আগামীর জন্য দোয়া করাই শবে বরাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য। 


তবে শবে বরাতের গুরুত্ব কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গভীর সামাজিক ও মানবিক বার্তাও। বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের সমাজ ও দেশ এক কঠিন সময় পার করছে। 


বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা। এই প্রেক্ষাপটে শবে বরাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের কথা। ইসলামের শিক্ষা কেবল ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেয়। এই পবিত্র রাতে দান-খয়রাত, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং আর্তমানবতার সেবার গুরুত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হতে পারে শবে বরাতের সবচেয়ে অর্থবহ ইবাদত।


একই সঙ্গে এই রজনী আমাদের দেশ ও জাতির জন্যও দোয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য সমবেত প্রার্থনা এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত মুক্তির আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সামষ্টিক কল্যাণের চিন্তাই শবে বরাতের শিক্ষা পূর্ণতা পায়।মনে রাখতে হবে, শবে বরাত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসবের রাত নয়। এটি আত্মসমালোচনা, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য উপলক্ষ। স্রষ্টার প্রতি বিনয় এবং সৃষ্টির প্রতি মমতার সমন্বয়েই শবে বরাতের প্রকৃত মহিমা নিহিত। পবিত্র এই রজনীতে আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় সমাজ গড়ার সংকল্প গ্রহণ করি। শান্তি ও রহমতে ভরে উঠুক সবার জীবন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?