- প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬ ১০:৩২ পিএম
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়,প্রয়োজন সহনশীলতার রাজনীতি
✍️ আহাদ তালুকদার
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য একটি স্বাভাবিক বিষয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শ দেশের উন্নয়ন, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। কিন্তু যখন এই মতপার্থক্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় রূপ নেয়, তখন তা গণতন্ত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। অথচ আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, রাজনৈতিক মতের অমিলকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ করা হচ্ছে। কখনো সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, কখনো হয়রানি, আবার কখনো সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকেই কলুষিত করে না, বরং সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতার জন্ম দেয়।
একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি থাকতে হয়। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো একজন নাগরিক তার মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন এবং অন্যের মতামতকেও সম্মান করবেন। কিন্তু যখন প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করা হয়, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে রাজনীতিতে সহনশীলতার পরিবর্তে অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে অনেক সময় শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জনজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি জাতির অগ্রগতির জন্য যেখানে ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন, সেখানে প্রতিহিংসার রাজনীতি জাতিকে পিছিয়ে দেয়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রতিহিংসা কখনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। বরং প্রতিশোধের চক্র নতুন প্রতিশোধের জন্ম দেয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ক্ষমতার লড়াইয়ের পরিবর্তে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করা। উন্নয়ন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হওয়াই কাম্য।
বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের শাসনের প্রতি আস্থা এবং সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ শুধু রাজনীতিবিদদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য প্রয়োজন।
সর্বপরি পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কোনো সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু নয়, বরং ভিন্নমতের অংশীদার হিসেবে দেখার মানসিকতাই পারে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জলবায়ু সহনশীল আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে...
-
রোকাইয়া,যবিপ্রবি প্রতিনিধি:সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত রাজধানীর নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী (১২-১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ...
-
কায়কোবাদ তুফান নলছিটি:ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তিন মাসের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষনা করলেও নির্বিকার নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো কার্যক্রম নেই...
-
কায়কোবাদ তুফান নলছিটি:ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তিন মাসের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষনা করলেও নির্বিকার নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো কার্যক্রম নেই...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!