- প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬ ০৩:২৭ পিএম
অনলাইন জুয়ার ছোবলে নিঃস্ব পরিবার, বাড়ছে আত্মহত্যা ও অপরাধ
স্টাফ রিপোর্টার:
একসময় জুয়া সীমাবদ্ধ ছিল নির্দিষ্ট আড্ডা বা গোপন আসরে। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন স্মার্টফোন, বিভিন্ন অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে সারাদেশে। এতে কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছেন ভয়াবহ এই আসক্তিতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইন বেটিংয়ের কারণে অনেকেই হারাচ্ছেন জীবনের সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন এমনকি পারিবারিক স্থিতিশীলতাও। বিভিন্ন এলাকায় আত্মহত্যা, পারিবারিক সহিংসতা, ঋণগ্রস্ততা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ার পেছনে অনলাইন জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম ও দেশীয় এজেন্টদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক। সিকে৪৪৪, সিভি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিক্রিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮ ও লাইনবেটসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের কারণে লেনদেন আরও সহজ হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, আগে ডলারভিত্তিক সীমিত লেনদেন থাকলেও এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষও সহজেই এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে।
শ্রীমঙ্গলে অনলাইন জুয়ার কারণে এক সরকারি চাকরিজীবীর আত্মহত্যা এবং কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে কক্সবাজার, বগুড়া ও যশোরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক আত্মহত্যা ও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশে অবস্থিত হওয়ায় মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলে এসব চক্র বেশি সক্রিয়।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্ট সিন্ডিকেট মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও লোকাল রিক্রুটদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ভুয়া সেলিব্রিটি ভিডিও ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
মেহেরপুরে এই চক্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেখানে অনেক তরুণ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যদিও তাদের আয়ের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি একাধিক অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে অনেকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তারা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তা না হলে অনলাইন জুয়া ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে| গোপালগঞ্জ ওয়াই ডাব্লিউ সি এ রাইজআপ প্রকল্প-৫ এর আয়োজনে এ...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ও অসহায় ৬০টি পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ভিআইপি রোড এলাকার ইঞ্জিনিয়ার কাওসার নাইম (শুভ)-এর ছাদবাগান থেকে একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!