নলছিটিতে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় শিক্ষক মিলন সাময়িক বরখাস্ত ও    প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার




নলছিটি প্রতিনিধি:


"নামাজ শারীরিক ব্যায়াম,জান্নাত,জাহান্নাম ও ফেরেশতা বলতে কিছু নেই। এগুলো স্বপ্নে দেখা। দেব-দেবীও বলতে কিছু নেই। এগুলোও স্বপ্নে দেখা।  মুহাম্মদ(স:) এর মা,বাবা ও দাদা ইহুদি ছিলেন। পৃথিবীর এক কোটিরও বেশি মানুষ ধর্ম পালন করে না,কিন্তু তারাও সত্য কথা বলে। ধর্ম বলতে কিছু নেই" একথাগুলো পাঠদানের সময় বলার প্রেক্ষিতে তা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা ফেরদৌস ও অপর তিন নারী শিক্ষককে শো-কজ করে ৩দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২০ আগষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের চিঠি পেয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 



 বিগত ১৫ মে-২৫ তারিখ নলছিটি গার্লস স্কুলের  ভোকেশনাল ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের বাংলা বিষয় "মানুষ মুহাম্মদ(স:) পাঠদানকালে নামাজ কি? প্রশ্নের জবাবে ছাত্রীরা বেহেশতের চাবী বললেও মিলন কান্তি দাস উপরোক্ত কথাগুলো বলে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের  অবমাননা করে ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেন। এ ঘটনায় উল্টো ছাত্রীদের দিয়ে মিলন কান্তির পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় নলছিটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর মিলন কান্তি কর্তৃক মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। এছাড়াও ৪ জন শিক্ষক ছাত্রীদের ভয়-ভীতি ও অভিশাপের কথা বলে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য ও ভিডিও করার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হলে তাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  



তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নলছিটি গার্লস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিলন কান্তি দাস কর্তৃক শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নং-৪১৮ তারিখ ২৮/৫/২৫ এ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল আজিম, নলছিটি থানার অফিসার ইন চার্জ মো: আ: ছালাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: আল আমিন মোল্লা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: বদরুল আমীনের সমন্বয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে উক্ত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ১ জুন নলছিটি গার্লস স্কুলের ১০ম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার ১৯ ছাত্রীর (যার মধ্যে ২ জন হিন্দু ছাত্রী স্মৃতি দাস ও ঝিলিক দাস) লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাসেরও লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্তকালীন নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় নেতা ও ঝালকাঠি-২ আসন থেকে  সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব ডাঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন,নলছিটি পৌর জামায়াত আমীর আলমগীর হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নলছিটি উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন জিহাদী, নলছিটি উপজেলা হেফাজতের  সাধারণ সম্পাদক মুফতি হানজালা নোমানী, ভলান্টিয়ার শাহাদাত আলম ফকির, নলছিটি উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা আতিকুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম নলছিটি উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি শফিকুল ইসলাম, নলছিটি গার্লস স্কুলের অভিভাবক সদস্য আব্বাস শিকদার, নলছিটি উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শ্রী কৃষ্ণ লাল চক্রবর্তী ও নলছিটি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন শাহিন।



তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত ১৫ মে সিনিয়র শিক্ষক মিলন কান্তি দাস বাংলা বিষয়ে মানুষ মুহাম্মদ(স:) এর পাঠদান করার সময়ে মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার বিষয়ে ১৭ জন মুসলিম ও ২ জন হিন্দু ছাত্রীর বক্তব্য প্রায় একই রকম। এ ঘটনার পর গত ২৪ মে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা আক্তার ছাত্রীদের বলেন তোমাদের প্রতিবাদ করা ঠিক হয়নি এতে মিলন কান্তি দাসের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য তোমাদের(ছাত্রীদের) মিলন কান্তি দাসের অভিশাপ লাঘবে। তখন শিক্ষক রুনা লায়লা থাপ্পড় দেখিয়ে ছাত্রীদের মিলন কান্তি দাসের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও করেন শিক্ষক মাওলানা ফেরদৌস। অপর শিক্ষক শাহনাজ রহমান ছাত্রীদের মিলন কান্তি দাসের পক্ষে লিখিত দিতে বলেন। এ ঘটনা নলছিটিতে জানাজানি হলে শিক্ষক মিলন কান্তি দাস ও জড়িত অপর শিক্ষকদের বিচার দাবীতে নলছিটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও অফিসার ইন চার্জ মো: আ: ছালাম নলছিটি উপজেলার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঠেকাতে সবাইকে অনুরোধ করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন এবং উক্ত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি অল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট রেডি করলেও অপরাধীদের রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম নলছিটি থেকে বদলী হয়ে যাওয়ার আগে গত ২২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরের প্রেরণ করেছেন। তদন্ত কমিটি ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় নলছিটি গার্লস স্কুলের শিক্ষক মিলন কান্তি দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। গত ১৯ আগষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নলছিটি গার্লস স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশন

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?