কেক কাটা, প্রার্থণা আর আনন্দ উৎসবের মধ্যে গোপালগঞ্জে বড়দিন উদযাপিত



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। কেক কাটা, প্রার্থণা আর আনন্দ উৎসবের মধ্যে যিশুখ্রীষ্টে জন্মদিন পালন করছেন গোপালগঞ্জের খ্রীষ্টান সম্প্রদায়। নানা রঙ্গে সেজেছে গীর্জা আর খ্রীষ্টান পল্লী। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীর্জায় গীর্জায় করা হয় প্রার্থনা। আর আইন-শৃঙ্গলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন।


গোপালগঞ্জ শহরের ঘোষেরচর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে গিয়ে দেখা গেছে, ঘড়ির কাটায় ঠিক ১২টা ১মিনিট। চারিদিকে আনন্দ অার হৈ-হুল্লোর। একই স্থানে জড়ো হয়ে “হ্যাপি বার্ডে টু ইউ”র সুরে যিশুখ্রীষ্টের জন্মদিনে কেট কাটলো শিশুরা। একযোগ গোপালগঞ্জে ১৬৯টি গীর্জায় উদযাপন করা হচ্ছে বড়দিন। প্রতিটি গির্জায় ধর্মীয় গান, ভক্তি ও আগামী দিনের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করে যীশুকে স্মরণ করেন ভক্তরা। একইসঙ্গে আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সুখ ও শান্তিপূর্ণ জীবন কামনা করেন তারা।


গির্জায়-গির্জায় আর খ্রীষ্টান পল্লীগুলোতে করা হয় রঙ বেরঙ এর আলোকসজ্জ্বা। সাজানো হয় ষ্টার ও ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে। স্বজন আর প্রতিবেশিরদের আপ্যায়ন করতে আয়োজন করা হয়েছে পিঠাপুলিসহ নানা খাবারের। আনন্দ আর উৎসবের মধ্যে বড়দিন পালন করছে শিশুসহ নানা খ্রীষ্টান সম্প্রদায়।


সোনালী বাড়ৈই বলেন, আজ বড়দিন। আমরা গীর্জায় কেক কেটেছি। পরিবার ও সকালের জন্য প্রার্থনা করেছি। নানা রকমের খাবার খেয়েছি। বিকালে সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।


মেরী বাড়ৈ বলেন, বড়দিন উপলক্ষে বাসায় নানা আয়োজন করেছি। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশিরা বাসায় আসবে। বাড়ীঘর বিভিন্ন ভাবে সাজিয়েছি। সবাই মিলে খুব আনন্দ করছি।


ঘোষেরচর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক পাষ্টর জীবিস্কো গোমেজ বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা জানান, জেরুজালেমের বেথলেহেমে দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে আজকের দিনে কুমারী মাতা মেরির কোলে আসেন খ্রিষ্টধর্ম প্রবর্তক যিশু। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তি, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা, বিশ্ব জুড়ে মানবিক বন্ধনকে দৃঢ় করা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠণ করতে মানুষের রূপে প্রভু যিশুর আগমন ঘটেছিল পৃথিবীতে। মানুষে মানুষে হানাহানি বন্ধে মানববতার কল্যাণে যীশুর অমোঘ বানী ছড়িয়ে পড়বে সকল অন্তরে, এমনটি মনে করনে এই পালক।


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, আজ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। বড়দিন নির্বিঘ্নে করতে জেলা প্রশামসনের পক্ষ থেকে ব্যপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গির্জা পরিদর্শন করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?