শিরোনামঃ

জাগো নারী" এর বাস্তবায়নে "উইলি" প্রকল্পের আওতায় পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন




সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃ

বরগুনায় আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতা। এ সময় স্ত্রীদের চেয়ারে বসিয়ে অস্থায়ী চুলায় খাবার রান্না করেন ২১ পরিবারের ২১জন পুরুষ। নারীদের কাজের মূল্যায়ন ও সমঅধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা "জাগোনারী"। 


সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া পি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে 'এএফডির' অর্থায়নে "কেয়ার" বাংলাদেশের সহোযোগিতায় এবং "জাগো নারী" এর বাস্তবায়নে "উইলি" প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরুষদের অংশগ্রহনে ব্যতিক্রমধর্মী এ রান্নার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীদের প্রচলিত বিভিন্ন কাজে বিভাজনের বিষয়ে পুরুষদেরকে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক সকল কাজে নারীদের সহযোগিতা এবং নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর ফলে নারীদের প্রতি সকল কাজে পুরুষদের সম্মান বাড়ার পাশাপাশি সমঅংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী।       


সরেজমিনে এ আয়োজন ঘুরে দেখা যায়, সাজিয়ে রাখা চেয়ারে বসে আছেন নারীরা এবং পুরুষরা করেছেন রান্নান আয়োজন। এদের মধ্যে কেউ শিলপাটায় পেঁয়াজ পিষছেন, আবার কেউ ব্যস্ত মাংস কাটায়। নারীদের সহযোগিতা ছাড়াই রান্নার সব কাজ করছেন তারা। পরে অস্থায়ী চুলায় রান্না করেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পুরুষরা। এ সময় স্ত্রীদের বসিয়ে রেখে ব্যতিক্রমধর্মী পুরুষদের এ রান্নার প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।  


পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতা দেখতে এসে মোসাঃ শিউলি নামে এক নারী বলেন, আমরা সারাবছরই স্বামীদের রান্না করে খাওয়াই। আজকে পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতা চলছে। রান্না করতে কেমন কষ্ট এবং কেমন লাগে আজ আমরা দেখার জন্য বসে আছি। প্রতিদিন আমাদের রান্না করতে কেমন কষ্ট হয়, তা এ আয়োজনের মাধ্যমে পুরুষরা বুঝতে পারবে। আমরা আশাকরি এর পর তারা আমাদের কষ্ট বুঝতে পারবে। 


মোসাঃ ঝুমা নামে আরেক নারী বলেন, রান্না করতে কি ধরণের কষ্ট হয় পুরুষরা তা অনুভব করতে পারে না। এ আয়োজনের মাধ্যমে তারা তা বুঝতে পারবে। আমি মনে করি এরপর থেকে আমাদের সকল কাজে পুরুষরা সহযোগিতা করবেন।   


মোসাঃ আসমা নামে আরও এক নারী বলেন, অনেক সময় বাহির থেকে পুরুষরা ঘরে এসে বলে এখনও রান্না হয় নায় কেনো। এ সময় ঘরের অন্য সব কাজ করাসহ রান্না করতে হয় বললেও তারা তা বিশ্বাস করেন না। অনেক পরিবারের নারীরা মারধরের শিকারও হয়। তবে আজকে পুরুষরা রান্না করায় তারা আমাদের কষ্ট অনুভ করতে পারবে। 


রান্না প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে মোঃ রাসেল হোসেন বলেন, আমার মা এবং স্ত্রী বাড়িতে আমাদের রান্না করেন। কিন্তু প্রতিদিন রান্না করায় কি ধরনের কষ্ট হয় তা এ প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে বুঝতে পারতামনা। সংসারের সকল কাজের পাশাপাশি দিনরাত নারীরা পরিশ্রম করেন। কিন্ত তাদের পরিশ্রমের কথা চিন্তা না করেই ছোট ছোট ত্রুটিতে অনেক সময় তাদেরকে বকাবকি করি। আমি প্রথমবারের মত রান্না করতে এসে নারীদের কষ্ট এবং পরিশ্রমের বিষয় ধারণা পেয়েছি।  


মোঃ রিপন হোসেন নামে আরেক প্রতিযোগি বলেন, আমরা সাধারণত বাইরে কাজ করি, ঘরের কাজ সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। আজকে রান্না করতে এসে দেখেছি খাবার তৈরি করতে অনেক কিছু করতে হয়। নারীদের ঘরের সকল কাজে যথাসম্ভব আমাদের সহযোগিতা করা দরকার।  


ব্যতিক্রমধর্মী রান্নার আয়োজন বিষয়ে জাগোনারীর উইলি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শুক্লা মুখার্জ্জী বলেন, আমাদের এ আয়োজনের মূল লক্ষ হচ্ছে নারী এবং পুরুষের সমতা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে সচেতন করা। সমাজে নারী এবং পুরুষ যৌথভাবে কাজ করে পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও নারীরা যে সব কাজ করে তাতে পুরুষের পাশাপাশি যাতে সমান অধিকার পায় এবং সমানভাবে কাজ করার সুযোগ ও মর্যাদা পায় সে লক্ষেই নারীদের উপস্থিতে পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। 


এ বিষয়ে জাগোনারীর প্রোগাম ডিরেক্টর গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা জন্ম থেকে দেখেছি রান্নার কাজসহ ঘরের সব কাজই মা বোনেরা করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে মুলত নারীদের কাজের বিষয়ে এবং মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরুষরা যাতে একটু সংবেদনশীল হয় সে বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। নারী এবং পুরুষের কাজ আমরাই ভাগ করেছি। তবে কাজের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সকল কাজেই একে অপরকে আমরা যাতে সহযোগিতা করতে পারি সে উদ্দেশ্যেই পুরুষদের রান্না করার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?