শিরোনামঃ

গৌরনদীতে ৫ দিনব্যাপী লালন উৎসব শুরু, ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা


নিজস্ব প্রতিবেদক 


বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাদারীপুর ও বরিশালের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এ উৎসবে এবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আয়োজক কমিটি।


জানা গেছে, উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুলে অবস্থিত প্রাঙ্গণে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে আশ্রমসংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পুকুরে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে আধুনিক লাইটিংয়ের মাধ্যমে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।


প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে এলাকাটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।


দর্শক-শ্রোতাদের বিনোদনের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত কুষ্টিয়া লালন একাডেমির শিল্পীরা লালনসংগীত পরিবেশন করবেন। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেবেন বাউল শিল্পী নিতু বালা, স্বাপ্নিক নৃত্য বিকাশের নৃত্যশিল্পীরা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সংগীতশিল্পীরা।


আয়োজকরা জানান, একতা লোকনাথ সংঘের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রামযাত্রা পালা এবং শুক্রবার মঞ্চস্থ হবে নিমাই সন্ন্যাস পালা। এছাড়া শনিবার রাত ৮টা থেকে শুরু হবে বিখ্যাত পাঠক বিল্লমঙ্গল দেবনাথ দাসের শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ। উৎসবের শেষ দিন রোববার শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ করবেন গোপীনাথ দাস ব্রহ্মচারী। প্রতিদিন আগত ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


একতা লোকনাথ সংঘের পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ বলেন, “প্রায় আড়াই যুগ ধরে এ আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার সুনাম ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আনন্দ-উৎসবের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সকলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”


গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ লক্ষ্যে থানা পুলিশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।”


গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, “এটি উপজেলার অন্যতম বড় ধর্মীয় আয়োজন। তাই সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?