গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একদিনে ৪১ আ’লীগ নেতার পদত্যাগ, ২ দিনে ১০৮ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একের পর এক কায্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পদপদবী ও দলীয় কায্যক্রম থেকে পদত্যাগ করছেন।
আজ সোমবার (০৩ আগষ্ট) সংবাদ সম্মেলন করে মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৪১ নেতাকর্মী গণ পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে ১০৮ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করলেন।
আজ সোমবার ও গতকাল রোববার উপজেলা সদর, পৌরসভা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হওয়ায় পদত্যাগের কারন হিসাবে দেখাচ্ছে।
আজ সোমবার (০৩ আগষ্ট) পদত্যাগকারী নেতারা হলেন, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিউর রহমান কবির মুন্সী, সহসভাপতি মফিজুর রহমান, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবুদারা কাজী, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সহ সভাপতি এস এম সাহিদুল ইসলাম সাধু, সাংগঠনিক সম্পাদক আ: ফিরোজ ফকির, সদস্য কামরুল মুন্সী, রঙন শেখ, মানিক মুন্সী, সজিব মুন্সী, মো: টিটুল মুন্সী, আলাল মুন্সী, মো: মনির মুন্সী, ৪নং ওয়ার্ড সহসভাপতি মোজাফফর হোসেন, বদ্দীন শেখ, সাধারন সম্পাদক আজাদুজ্জামান, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিক শেখ, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু বক্কর মুন্সী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আ: হান্নান কাজী, দপ্তর সম্পাদক মো: জিন্নাত শেখ, সদস্য শেখ আজগর, মো: বাদল শেখ, মো: রওশন আলী, মো: রিপন শেখ, আব্দুল হাই শেখ, আনিচ শেখ, মোঃ জাকের আলী, মো: ছলেমান ফকির, মো: কাবুল হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক মো: তৈয়াবুর সরদার, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মো: সহিদ শেখ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মো: আশরাফ আলী, সদস্য মো: ফরিদ শেখ, ১নং ওয়ার্ড ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন, ২নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক লায়েক উজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুজামান ও ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো: ওহিদ কাজীসহ ৪১ জন।
অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শফিউর রহমান ফরিদ মুন্সী। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪১ জন নেতা আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও ৩ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি এবং পদত্যাগকারী নেতারা আর সম্পৃক্ত থাকবেন না।
তিনি আরও বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে তাদের সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার আহ্বান জানালেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পদত্যাগকারী নেতারাও আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
অপরদিকে, গতকাল রবিবার (০২ আগষ্ট) এক দিনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৬৭ নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তারা হলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল মোল্লাসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এ ইউনিটের অন্য নেতারা হলেন-পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য পলাশ মোল্লা, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আবুলকালাম আজাদ, আওলাদ শেখ, আকরাম চৌধুরী, মো. খোরশেদ মিয়া, সাইফুল শেখ, চাঁন শেখ, সিদ্দিক শেখ, সুমন মুন্সি, মো. সালাম মোল্লা, মো. হাসমত মোল্লা, ঠান্ডু শরীফ, শাজাহান মোল্লা, মো. শাজাহান মৃধা, আবু সাইদ মিনা, মোহাম্মাদ শেখ, মো. রশিদ শেখ, মো. মফিজ শরীফ, মো. হাসিব শেখ, মো সুমন শেখ, মো. আমিরুল শরীফ, মো. মাহাবুর শরীফ, মালেক শেখ, ফারুক মীর, মো. তারেক মোল্লা, মো. আশরাফ আলী, ৫নং ওয়ার্ড নেতা হান্নান শেখ, সাজন শিকদার, মামুন হাসান, সৈয়াদ শেখ, আবুল হোসেন (আবু), মাসুদ মুন্সী, ৭নং ওয়ার্ড নেতা আ. হক, ৮নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি হেমায়েত ফকির, সদস্য মো. নাসিরুদ্দিন।
অন্য একটি সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব মো. জাকির সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের দুই সহসভাপতি মো. আনিচুর রহমান বিশ্বাস ও কাশেম শেখসহ পৌর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা একই ঘোষণা দেন।
এ ইউনিটের অন্য নেতারা হলেন-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল খায়ের সরদার, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হারুন ঠাকুর, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিউর রহমান মহব্বত, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চুন্নু মোল্যা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়ের সিকদার, সদস্য মানিক মিয়া, শহিদুল শেখ, রাসেল শেখ, হারুন অর রশিদ, নাইমুল ইসলাম, সেকেন শেখ, শুকুর আলী শেখ, আতিয়ার ফকির, বসির আহম্মেদ, মো. ওহিদ ঠাকুর, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য কাওসার মোল্যা।
এছাড়া উজানী ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হরিদাস বিশ্বাস, সহসভাপতি প্রণয় কর্মকার, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহন বাঁশি পান্ডে, সদস্য নৃপেন পান্ডে, বুদ্ধি কান্তি পান্ডে, মৃতুঞ্জয় পান্ডে, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের খিপু মোল্লা, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াদ আলী মোল্লা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
একইভাবে মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জিত দত্ত, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য কালাচান দাস, ভাবড়াশুর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ছলেমান কাজী, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য নজির মিয়া, নাসির মিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া নেতারা বলেন, আজ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। আইন ও রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আবার কেউ অসুস্থতা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণও পদত্যাগের পেছনে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। এ কারণে তারা দলের প্রাথমিক স