- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৫ এএম
ঘরে বসেই বিশ্বজয়: বরিশালের অনিকের ৮ হাজার ডলারের গল্প
কয়েক বছর আগেও বরিশালের অনিক চন্দ্র সেনের কাছে "ফ্রিল্যান্সিং" শব্দটা ছিল স্রেফ শোনা কথা—পত্রিকার পাতায়, বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে দেখা এক অচেনা জগৎ, যেখানে বসে থেকে বিদেশি মুদ্রা আয় করার স্বপ্ন দেখা যায় বটে, কিন্তু বাস্তবে পা রাখার পথটা কারো কাছে স্পষ্ট ছিল না। দেশের লাখো শিক্ষিত তরুণের মতো তাঁর সামনেও ছিল একই প্রশ্ন—পড়াশোনা শেষে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, সীমিত সুযোগ, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সেই অনিশ্চয়তার বৃত্ত ভেঙে আজ তিনি দেশের অন্যতম সফল তরুণ ফ্রিল্যান্সার—আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস থেকে অর্জন করেছেন প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার।
গল্পের মোড় ঘোরে যখন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে "দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি" শীর্ষক প্রকল্প। এই উদ্যোগের হাত ধরেই ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল ব্রাঞ্চে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণে যুক্ত হন অনিক। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপে মনোযোগী থেকে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি, আর সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে পা রাখেন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে।
নিজের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ছিল না কেবল নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই শুরু করেন আর।
ই লার্নিং এর ল্যাবে অতিরিক্ত সময়ে পিসি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
সময় খুব বেশি লাগেনি। ধীরে ধীরে একের পর এক কাজ, ক্লায়েন্টের আস্থা আর নিজের অধ্যবসায়ে অনিক পৌঁছে যান এমন এক জায়গায়, যেখানে তাঁর আয় ছাড়িয়ে যায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার—দেশের আটটি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সফল ফ্রিল্যান্সারদের তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি।
এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে অনিকসহ দেশের আটটি বিভাগ থেকে সেরা আট ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা জানানো হয়। মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক ও ল্যাপটপ গ্রহণ করেন অনিক চন্দ্র সেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত অনিক বলেন—
> "ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের সঠিক গাইডলাইন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ আমার জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ই লার্নিং এন্ড আর্নিং লি এর বরিশালের বিভাগীয় প্রধান কিশোর চন্দ্র বালা ও ডিজিটাল মার্কেটিং মেন্টর তাফসির আহমেদের সার্বিক তত্বাবধানে শিকড় থেকে শিখরে আসা সম্ভব হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে এমন সম্মাননা গ্রহণ আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।"
একটি প্রকল্প, হাজারো স্বপ্নের ঠিকানা
অনিকের গল্প বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়—এটি একটি বৃহৎ পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। দেশের বেকার ও শিক্ষিত যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে দেশের আট বিভাগের হাজারও তরুণ আজ ঘরে বসেই বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন, হয়ে উঠছেন স্বনির্ভর।
অনিক চন্দ্র সেনের এই সাফল্য প্রমাণ করে—সঠিক প্রশিক্ষণ, নিষ্ঠা আর সুযোগের সম্মিলনে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন তরুণও পৌঁছে যেতে পারেন বিশ্ব মঞ্চে। তাঁর গল্প আজ অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে দেশের লাখো বেকার তরুণ-তরুণীকে, যারা এখনো নিজেদের সেই প্রথম পদক্ষেপটির অপেক্ষায় আছেন।
এই বিভাগের আরো খবর
-
কয়েক বছর আগেও বরিশালের অনিক চন্দ্র সেনের কাছে "ফ্রিল্যান্সিং" শব্দটা ছিল স্রেফ শোনা কথা—পত্রিকার পাতায়, বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একের পর এক কায্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পদপদবী ও দলীয় কায্যক্রম থেকে...
-
মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি:বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এডভোকেট রিপন চৌকিদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলার ঘটনায়...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!