ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জলবায়ু ও শান্তি উদ্যোগের যাত্রা শুরু
বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়া ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তির জন্য তরুণ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ঝালকাঠির শিক্ষার্থীদের জলবায়ু নেতৃত্ব বিকাশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু জলবায়ু সংকটের ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমাধানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ইয়ুথনেট গ্লোবাল।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের আয়োজনে এ উদ্যোগের প্রারম্ভিক সভা বুধবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি ও অহিংসা বিষয়ক সংগঠন Peace e Bene Nonviolence Service-এর ‘Changemaker Youth Grant 2026’-এর জন্য বিশ্বের ৭০০টির বেশি আবেদন থেকে ১১ জন তরুণ পরিবর্তনসাধককে নির্বাচিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, কলম্বিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তরুণদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের সাজিদ মাহামুদ তাঁর ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তির জন্য তরুণ’ উদ্যোগের জন্য এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, স্থানীয় সরকার শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুলিয়া সাকায়না এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ।
এ ছাড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, পাঁচটি জলবায়ু ক্লাবের প্রতিনিধি, ইয়ুথনেট গ্লোবালের সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
উদ্যোগটির আওতায় ঝালকাঠির পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জলবায়ু ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে জলবায়ু শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তা, শান্তিপূর্ণ সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য সমাধান উদ্ভাবন এবং নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উৎসাহিত করা হবে।
পরবর্তী সময়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সবুজ কার্যক্রম দিবস’ এবং জেলা পর্যায়ে ‘জলবায়ু ও শান্তি মেলা’ আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে নিজেদের উদ্ভাবিত সমাধান ও উদ্যোগ উপস্থাপন করবে।
সাজিদ মাহামুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর। কিন্তু তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তির জন্য তরুণ শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম, শান্তি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের শুধু সচেতন করাই যথেষ্ট নয়, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তির জন্য তরুণ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ঝালকাঠির শিক্ষার্থীদের সেই নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ সুরক্ষা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সভায় অতিথিরা বলেন, জলবায়ু শিক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঝালকাঠির মতো অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁরা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের জলবায়ু সচেতনতা, নেতৃত্ব এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
প্রারম্ভিক সভার মাধ্যমে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। আগামী চার মাসে ঝালকাঠির পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।