গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর জয়নগর ফেরী ঘাট উদ্বোধন, ঘটবে দুই জেলার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন



স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর জয়নগর ফেরী ঘাট উদ্বোধন করা হয়েছে। ফেরী চলাচলের ফলে দুই জেলার উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন সহজতর হবে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন প্রশাসনসহ স্থানীয়রা।


জানাগেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশাহী ইউনিয়নের জয়নগর খেয়া ঘাট। দীর্ঘ সময় ধরে, নড়াইল জেলার নড়াগাতি ও কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে খেয়া নৌকায় পাড়াপাড় হয়ে গোপালগঞ্জে আসতেন। যাতায়াতে ও মালামাল নিয়ে পাড়াপাড়ে প্রচুর চরম ভোগান্তিতে পড়তেন দুই জেলার মানুষ।


এই দুই জেলার মানুষের সুবিধার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে এই ফেরী চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে এই ফেরী ঘাটের শুভ উদ্বোধন করেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম রকিবুল হাসান, গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে, ফরিদপুর ফেরী বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আতাউর রহমান, ফরিদপুর ফেরী বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী চিন্ময় সরকার এবং স্থানীয় সুকতাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রানা মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।


মধুমতি নদীর নতুন এই ফেরী ঘাটের উদ্বোধনের ফলে নদীর পশ্চিমপাড় নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। এছাড়া, দুই জেলার উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন সহজ হয়েছে। নড়াইল জেলার নড়াগাতী ও কালিয়া উপজেলাবাসী প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতো। এই ফেরী চালুর ফলে আর তাদের এত পথ ঘুরতে হবে না। সহজেই তারা কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।


ট্রাক চালক কাজল খান বলেন, নড়াইল জেলার নড়াগাতী ও কালিয়া থেকে ঢাকায় যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতো হতো। এতে আমাদের যেমন সময় লাগতো তেমনি আর্থিক ব্যয় বেশি হতো। এ ফেরী চালু হওয়ায় এখন আমাদের একদিকে যেমন সময় ও অর্থ বাঁচবে অন্যদিকে, ভোগান্তি কমবে।


জয়নগর গ্রামের শাহ আলী বলেন, নড়াইল যেতে হলে আমাদের খেয়া পাড় হয়ে যেতে হতো। অনেক সময় খেয়া না পেলে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো। এই ফেরী চালু হওয়ায় সহজেই আমরা চলাচল ও কৃষিজাত পন্য আনা নেয়া করতে পারবো। 


গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে বলেন, এই ফেরী চালুর মাধ্যমে নড়াইল জেলার নড়াগাতী ও কালিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের আর প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হবে না। সহজেই তারা এই ফেরী পারাপার হয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, এবং চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেলেও আসতে পারবেন।


জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, দুই জেলার মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য এবং এই এলাকায় কৃষি পণ্যের বাজারজাত সহজীকরণে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেরি চলাচলের ফলে মানুষকে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। সহজেই যাতায়েত করার পশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?