শিরোনামঃ

গোপালগঞ্জে অটোরিক্সা চালক আবির হত্যার রহস্য উদঘাটন


নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের আলোচিত আবির সাহা (১৫) হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


ব্যাটারী চালিত রিক্সা ছিনতাই করতে ইয়াবা সেবনের পর আবির সাহাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ব্যাটারির এসিড দিয়ে তার মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। পরে ছিনতাইকৃত রিক্সার পার্টস বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর এ হত্যাকান্ডে আবিরের মাদকসেবী ৩ বন্ধু অংশ নেয় বলে জানায় পুলিশ।


আজ রবিবার (১৫ মার্চ) গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ১২ মার্চ শহরতলীর ঘোষরচর গ্রামের মুজাহিদ শেখের ছেলে সিহাব শেখকে (২২) গ্রেফতার করে। তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সিহাব এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই গ্রামের নাজমুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম শেখ ওরফে রসুল ওরফে পাইচোকে (২৫) গ্রেফতার করে। তারা আরো একজন পলাতক আসামির নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।


বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সিহাব পুলিশকে আরো জানায়, আবির সাহা  হত্যাকান্ডে  জড়িত আসামি সাইদুল ইসলাম শেখ ও পলাতক অপর আসামী সকলেই বন্ধু। তারা  সবাই  মাদকে আসক্ত। বিভিন্ন সময় তারা একসাথে মাদক সেবন করত। ঘটনার দিন  গত ৩০ নভেম্বর  আবির সাহার রিক্সা ছিনতাই করতে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আবির সাহাকে ইয়াবা সেবনের লোভ দেখায়। রিক্সা নিয়ে আবির গোপালগঞ্জ শহরতলীর  ঘোষেরচর উত্তরপাড়া ফিরোজ খানের বাঁশ বাগানে যায়। রিক্সা একটু দূরে রেখে তারা সকলে মিলে ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবন করে। এক পর্যায়ে পলাতক আসামী ইয়াবার আসর থেকে উঠে এসে আবিরের রিক্সার ব্যাটারি খোলার চেষ্টা করে। আবির ব্যাটারি খোলার শব্দ পেয়ে তার রিক্সার ব্যাটারি খুলতে বাঁধা দেয়। পলাতক আসামি তার (আবিরের) মুখ চেপে ধরে। এক পর্যায়ে  জ্যাকেটের ফিতা দিয়ে গলায় প্যাচ দিয়ে ধরে। আসামী সিহাব তার হাত চেপে ধরে ও অপর আসামী সাইদুল ইসলাম শেখ পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে আবিরকে হত্যা করে। পরবর্তীতে পলাতক আসাসি রিক্সার ব্যাটারির এসিড ঢেলে তার (আবিরের) মুখ ঝলসে দেয় যাতে লাশ কেউ সনাক্ত করতে না পারে। পরে তারা রিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত রিক্সার যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোরা করে নেয়। আসামি সিহাবের স্বীকারোক্তি ও সনাক্তমতে ছিনতাইকৃত রিক্সার ২টি ব্যাটারি ঘোষেরচর গ্রামের মুন্নাফ শেখের ছেলে টুলু শেখের ভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়। ছিনতাইকৃত রিক্সার পার্টের বিভিন্ন অংশ ও ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিখোঁজের ৭ দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ শহরতলীর ঘোষেরচর উত্তরপাড়া ফিরোজ খানের বাঁশ বাগান থেকে পুলিশ আবির সাহার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই দিন রাতে আবির সাহার মা অনিতা বালা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?