- প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩৪ পিএম
গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ১০ সন্ন্যাস চড়ক ঘুল্লী
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডোমরাশুর গ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বাঙালির চিরায়ত লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ চড়ক পূজা। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান আকর্ষণ ছিল শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘চড়ক ঘুল্লী’। তবে এ চড়ক ঘুল্লী মূল আকর্ষণ ছিলো দশ সন্ন্যাস চড়ক ঘুল্লী। যা দেখতে ভীড় করে হাজার হাজার মানুষ। আর এ চড়ক ঘুল্লীকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীন মেলা।
জানাগেছে, পঞ্জিকা মতে বাংলা বছরের চৈত্র মাসের শেষে চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক ঘুল্লীর আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে এবার বাংলা নববর্ষে আনন্দ দিতে বৈশাখের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডোমরাশুর গ্রামের পঞ্চপল্লী বড় ডোমরাশুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় চড়ক ঘুল্লীর। এসময় ঢাকের বাদ্যের তালে মুখোরিত হয়ে ওঠে মাঠ। তবে এ মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দশ সন্নাস্য ঘুল্লী। এ ঘুল্লতে অংশ নেয়া ৮ যুবক ও দুই নারীর পিঠে লোহা দিয়ে তৈরী দুটি করে বড়শি ফোরানো হয়। পরে মাঠের মাঝখানে গাছের লম্বা খুঁটির দশ মাথায় রশি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হয় আট যুবক ও দুই নারীকে। পরে রশি দিয়ে বেঁধে ঘুরানো হয় কয়েক দফা। বিকাল থেকে গোধূলী পর্যন্ত চলে এ চড়ক ঘুল্লী। পূন্য লাখের আশায় এ চড়ক ঘুলি¬তে অংশ নেন তারা।
এ চড়ক মেলা দেখতে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শিশু-নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ ভীড় জামায়। অনুষ্ঠান স্থল পরিনিত হয় মিলন মেলায়। এ চড়ক ঘুল্লীকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীন মেলা। খাবার, গহনা, মিষ্টির দোকান ও মাটির খেলনাসহ বসে বিভিন্ন দোকান।
চড়ক ঘুল্লীতে দেখতে আসা সুব্রত দাস বলেন, চড়ক ঘুল্লী সনাধন ধর্মের একটি ধর্মীয় উৎসব। যা একটি একটি ঐতিহ্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় ২ বা ৪ জনের চড়ক ঘুল্লি দেখেছি। তবে এবারই প্রথম এখানে ১০ জনের চড়ক ঘুল্লি দেখলাম। দেখে খুব ভালো লাগলো। আগামীতেও এমন আয়োজনের দাবী জানাই।
চড়ক ঘুল্লীতে দেখতে আসা স্কুল শিক্ষার্থী তিথি বিশ্বাস বলেন, এবারই প্রথম আমি চড়ক ঘুল্লি দেখতে আসলাম। দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে এখানে ১০ জনের চড়ক ঘুল্লি দেখলাম। প্রখমবার দেখে কতটা আনন্দ পেলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
চড়ক ঘুল্লীতে দেখতে আসা বয়োবৃদ্ধ চৈতন্য বৈরাগী বলেন, আমরা যখন চড়ক ঘুল্লি দেখতাম তখন ২ বা চার জনের ঘুল্লি হতো। আজ এখনে ১০ জনের ঘুল্লি দেখে খুব ভালো লাগলো। এছাড়া এ চড়ক ঘুল্লিকে কেন্দ্র করে মিলন মেলায় পরিনত হয। পরিবারের সবাই একসাথে এসে এ চড়ক ঘুল্লি উপভোগ করে।
চড়ক ঘুল্লী ও মেলার আয়োজক উজ্জ্বল ভক্ত জানান, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দীর্ঘ বছর ধরে আমরা চড়ক পূঁজা ও চরক ঘুল্লীর আযোজন করে আসছি। এটা আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য। এ মেলাটি শুধু হিন্দু ধর্মাম্বালম্বীরাই নয় অনান্য ধর্মের লোকজন চরক ঘুল্লী দেখতে আসেন। সৃষ্টি হয় ধর্মীয় সম্প্রিতির বন্ধন। #
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!