গোপালগঞ্জে দুধ দিয়ে গোসল করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি ছাড়লেন বিএনপি নেতার ছেলে



স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে দুধ দিয়ে গোসল করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি ছাড়লেন বিএনপি নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ফাইম ভূঁইয়া (১৮)।


ফাইম ভূঁইয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।


পদ ছাড়া ওই ছাত্রলীগ নেতা ফাইম ভূঁইয়ার বাবা নয়ন ভূইয়া সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।


ওই ছাত্রলীগ নেতা ফাইম ভূঁইয়ার দুধ দিয়ে গোসল করে সংগঠন ছাড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা আর সমালোচনা।


জানাগেছে, গতকাল শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে এক বালতি দুধ দিয়ে গোসল করেন চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাইম ভূঁইয়া। এসময় তিনি আর কখনো ছাত্রলীগ করবেন না বলে শপথ করেন। এরপর তিনি ঘোষণা দেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে তার আর কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।


পদত্যাগের বিষয়ে ফাইম বলেন, আমাকে না জানিয়েই চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে পদত্যাগ করলাম। আমার নাম ছাত্রলীগে জড়ানো হয়েছে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য। ছাত্রলীগ একটি বিতর্কৃত সংগঠন, আমি এমন সংগঠনের সাথে থাকতে চাই না। আমি জানতে পেরেছি, আমার বয়স যখন ১১, তখনই নাকি আমাকে কমিটিতে রাখা হয়েছিল!


কেন দুধ দিয়ে গোসল করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফাইম জানান, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে শুদ্ধ করেছি।


ফাইমের দুধ দিয়ে গোসল করে ছাত্রলীগ ছাড়া এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা আর সমালোচনা।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আজমানুর রহমান ভূঁইয়া লিখেন, তার বাবা যুবলীগের প্রার্থী ছিলো। এখন নিজে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বনে গেছে। যেই মহান ব্যক্তি দুধে গোসল করলো সেই কমিটিটাও তার বাবা নয়ন ভূইয়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল সিকদারের সাথে লিয়াজু করে চাচাতো ভাইকে সভাপতি করে চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি এনে দেয়। তখন এই দুধে ধুয়া তুলসী পাতা ক্লাস ৬/৭ এ পড়ে। সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় ডেক সেট এনে সারারাত উৎযাপন করেছিলো। তাহলে ভুলে তার নাম কেমনে আসলো? মাথায় আসে না।


শান্তনু চৌধুরী নামে একজন লিখেন, এসব ধান্ধাবাজ যেন আর আওয়ামঅ লীগ-এ ফিরে না আসতে পারে। সেই ব্যাপারে ও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। দলের বিপদে যে পল্টি মারে তাকে আর প্রয়োজন নেই সুদিনে।


এমডি শহীদুল শিকদার নামে আর এক ব্যক্তি লিখেন, এখন বিএনপি যোগ দে ভাই। তারপর দশ বছর পর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বলবে শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। এত বড় ছাত্রলীগ নেতা ছিলো গোপালগঞ্জবাসীর মনে ছিলো না। পুলিশের এত ভয় নগদ রং পরিবর্তন।


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন বলেন, ছাত্রলীগ ছাড়া ফাইম ভূঁইয়ার বাবা নয়ন ভূইয়া সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ফাইম ভূঁইয়া যে তার ছেলে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে খোঁজ নিয়ে তা জানতে পারলাম। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?