গোপালগঞ্জ-০১ আসন :  কারাবন্দী বাবাকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : আগামী ২১ এপ্রিল যার এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা সেই শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে বই খাতা গুছিয়ে রেখে বাবার সম্মান ফিরিয়ে আনতে রাত দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বাবার জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন।


গেপালগঞ্জ-০১ আসনে করাবন্দী পিতাকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে নামেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুলের ১৬ বছর বয়সী ছেলে খাইরুল আলম সায়াদ।


রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পিতার কারামুক্তির জন্য তিনি মানুষের সমর্থন যোগাতে ভোট চাচ্ছেন। ভোটাররাও তাকে মাথায় হাত দিয়ে বা জড়িয়ে ধরে দোয়া ও আশির্বাদ করছেন।


জানাগছে, গোপালগঞ্জ-০১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে মনোনয়ন পত্র জমা দেন আশ্রাফুল আলম শিমুল। এরপর যাচাই বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে। পরে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেন। গত ৮ জানুয়ারী আশ্রাফুল আলম শিমুলকে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রিয়াজ মোর্শেদ অপু হত্যা মামলায় তাকে ওই দিন গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার অনুপস্থিতেই ফুটবল প্রতীক দেয়া হয়।


আশ্রাফুল আলম শিমুলের ছেলে খাইরুল আলম সায়াদ বলেন, আমার বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি কখনো কারো ক্ষতি করার কথা তো দূরের কথা, কারো মনে কষ্ট দেওয়াও অন্যায় মনে করেন। মানুষের জন্য তার অসীম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কর্তব্যবোধ তাকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দাপট নয়, আমার বাবার আমাকে এটাই শিখিয়েছেন। রাজনীতি, তার দৃষ্টিতে, মানুষের পাশে থাকা, তাদের বিপদে, দুঃখে, সংগ্রামে সহায়তা করা। তিনি কখনো নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে কষ্ট দেননি। তার রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক।


সায়াদ আরও বলেন, আমার বাবা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর তাকে মিথ্যে রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত করে ঢাকা রমনা কালী মন্দির এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন মানুষ মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। আমি মনে করি, আমার বাবা আশরাফুল আলম শিমুলের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যে মামলায় কারাবন্দী করা হয়েছে। আমি আমার বাবার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।


তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি আমার বাবার আদর্শের প্রতি জনগণের আস্থা, তার প্রতি সম্মান এবং তার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের প্রতি এক ধরনের সম্মাননা। তাই অন্ধকার যতই গাঢ় হোক না কেন, সূর্য কিন্তু উঠে আসবেই। এই লড়াই আমি একা নই, আমার সঙ্গে আছেন গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সম্মানিত ভোটার, মুকসুদপুর কাশিয়ানীর মানুষ এবং পুরো বাংলাদেশের জনগণ। এই নির্বাচনে বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।


স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুলের বাবা খায়রুল বাকী মিয়া ১৯৮৫ সালে মুকসুদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার সুনাম আর ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পরে ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন পরাজিত হননি। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?