গলাচিপায় মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে হয়রানী


গলাচিপা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 

মিথ্যা মামলা দিয়ে সহকারী অধ্যাপক ও গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.হারুন অর রশিদ এবং তার পরিবারকে হয়রানী শিকার হচ্ছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে,  মরিয়ম আক্তার গত ৩০ ডিসেম্বর বাদী হয়ে মো.হারুন অর রশিদসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। 

জানা গেছে,  গলাচিপা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড রতনদী মৌজার ৪ টি দাগের দিয়ে সাংবাদিক হারুন অর রশিদের পিতা আপ্তার আলী হাওলাদার ১৯৮১ সালে নজরুল প্যাদাসহ ৬ ভাই বোনের কাছ থেকে ৪৮.৫ শতাংশ জমি ক্রম করে। বর্তমানে ২টি বাড়ি সহ সেখানে হাুন অর রশিদের দুই ভাই বসবাস করে। সাংবাদিক ও প্রভাষক হারুন অর রশিদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন ও আবুল কাশেম তাদের নামে দিয়ারা জরিপে ৪৫ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়েছে। 

হারুন অর রশিদ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কাইয়ুম মাহমুদ উক্ত জমিতে বারবার দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এদিকে গত সোমবার কাইয়ুম মাহমুদ উক্ত জমিতে বাউন্ডারি করতে গেলে তা নিষেধ করলে তাদের সংঘবদ্ধ দল আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আমি, আমার ভাই আবুল কাশেম, ভায়ের ছেলে আফ্রিদি ও অনিক এবং ভাইঝি অনুকে গুরুতর আহত করে। আফ্রিদি ও অনু বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে্েক্স চিকিৎসাধীন আছে।  এ ঘটনায় হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর ৯ জনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে গলাচিপা আদালতে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।  তাতে ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ১১টায়। কিন্তু আহত আমার ভাইপো আফ্রিদি গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তির সময় ১০ টা ৪৫ মি এবং অনু ভর্তি সময় ১০ টা ৫০মিনিট। এছাড়া কাইয়ুম মাহমুদ আমাদের উপর হামলা করে গলাচিপা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বিরোধীয় জমিতে। কিন্তু মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এলাকায়। ঘটনা স্থল থেকে ৩ কিমি দূরে। মামলায় যা বর্ণনা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এছাড়া মামলার ১০ নং আসামি লুৎফুন নাহার একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।  ঘটনায় সময় তিনি তার বিদ্যালয় উপস্থিত ছিলেন। ১২ নং আসামি সিনহার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২০ বছর। তার প্রকৃত বয়স ১৪ বছর। ঘটনার সময় সে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছিল। ১৪ নং আসামি নাসির মাস্টার একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সে দেড় বছর ধরে গলাচিপা উপজেলা থেকে দূরে। তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। এদিকে নাসির মাস্টারের স্ত্রী রুজি আক্তারের বয়স ৪০ দিলেও তার মেয়ের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৩৮ বছর। মা-মেয়ের বয়সের পার্থক্য মাত্র ২ বছর।

মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল পার্শ্ববর্তী আনোয়ার হোসেন (আনু মোক্তার) জানান, কাইয়ুম একজন ভূমিদস্যু। কাইয়ুমের বসতঘর আমার বাড়ি থেকে ২০০ গজের মধ্যে। কাইয়ুম বসতবাড়িতে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটে নাই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একই কথা জানান রতনদী এলাকার বাসিন্দা মো.সোহেল মিয়া।  তিনি বলেন, কাইয়ুমের বসতঘর আমার বাড়ি থেকে ১০০গজ দূরে। কাইয়ুম এর বাড়িতে কোনো ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা ঘটে নাই। 

সহকারী অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ আরও জানান, উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তি হীন।  আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। আমি এর সুবিচার দাবী করছি।

গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিল্লুর রহমান জানান,তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?