শিরোনামঃ

দুই শিশু সন্তানের কি হবে?

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হিরাদার গ্রামে দুই শিশু সন্তান রেখে মা আছমা বেগম পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন বহু আগেই। এরপর পানিতে ডুবে মারা যান প্রতিবন্ধী বাবা নাসির হাওলাদার। এখন জীবনের নির্মম বাস্তবতায় একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে দুই শিশু সন্তান মেহেদী ও মাইনুল।


বর্তমানে বৃদ্ধ দাদি রিজিয়া বেগমের ভিক্ষাবৃত্তির আয়ে কোনোমতে চলছে তাদের সংসার। মানবেতর জীবনযাপন করা এ দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 


জানা গেছে, বিগত পাঁচ বছর আগে ৫ বছর বয়সি দুই শিশু সন্তান রেখে মা চলে যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শিশু দুটির বাবা নাসির হাওলাদার। গত ৩ বছর আগে তার অকাল মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে চরম দুর্দশা। অন্যদিকে তাদের মা দীর্ঘদিন আগে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ায় সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব এসে পড়ে বৃদ্ধ বিধবা দাদি রিজিয়া বেগমের ওপর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দাদি প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে দুই নাতির মুখে খাবার তুলে দেন। অনেক সময় খাবারের অভাবে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয় তাদের। পর্যাপ্ত পোশাক, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এই শিশুরা। শিশু দুটির জীবন অত্যন্ত কষ্টের প্রায় সময় দেখা যায় বাড়ির উঠোনে বাবার কবরের সামনে ঘুনঘুড়িয়ে কান্না করছে তারা। আজ তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।


দাদি রিজিয়া বেগম বলেন, আমি নিজেও বিধবা সংসারে উপার্জন করার কোন ব্যক্তি নেই। বাধ্য হয়ে এখন মানুষের দুয়ার দুয়ারে ভিক্ষা করে সংসার চলছে। এতিম এই শিশু দুটির পাশে কেউ এখন পর্যন্ত দাঁড়ায়নি। সরকারি কোনো সহায়তাও আমাদের কপালে জোটেনি। আমাদের চেয়ে অসহায় মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। সরকারি কোন সহায়তা পেলে শিশু দুটিকে হয়তো লেখাপড়া করাতে পারতাম। 


এলাকাবাসীর দাবি, অসহায় এই দুই শিশুর জন্য সরকারি সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ এবং খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?