- প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৫ ০৫:৪০ পিএম
ডেমরায় অপরাধ সাম্রাজ্য: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি-মামলা বাণিজ্য
চাঁদাবাজি-ছিনতাই-মামলা বাণিজ্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
রাজধানীর ডেমরা এলাকা ক্রমেই রূপ নিচ্ছে অপরাধের অভয়ারণ্যে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, খুন-জখম, মামলার মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—এরা রাজনৈতিক গডফাদারদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ আইনের শাসন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক ছায়ায় ত্রাসের রাজত্ব
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেমরার এসব অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িতরা বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে ভুক্তভোগীদের ওপর নেমে আসে ভয়ঙ্কর হামলা ও নিপীড়ন।
স্থানীয়ভাবে ‘জামান-সেলিম’ নামে পরিচিত আনিসুজ্জামান ওরফে জামান এবং সেলিম রেজা ওরফে সেলিম এলাকার স্কুল-কলেজের কমিটিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তাদের অনুমতি ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরাধচক্রের সদস্যরা
স্থানীয় সূত্রমতে, ইখলাক খান রুদ্র, কাইলা সোহেল, সুজাত, ইমন, আব্দুল্লাহ, আকাশ, সাজিত, হাফেজ, সাফওয়ান হোসেন রিফাত ও বাদশা ঢালী—এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সুযোগে তারা রাজনৈতিক আনুগত্য বদল করে বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় চলে আসে। এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তারা বিএনপির নামে অপকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশও রেহাই পায়নি
এ চক্রের প্রভাব এতটাই প্রবল যে, পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বিকেলে সারুলিয়া ওয়াসা রোডে মাছ চাষি রেজাউল হককে মারধরের সময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সারুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য জুয়েল রানাকে লোহার শিকল দিয়ে আঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় ডেমরা থানায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় বাদশা ঢালী ও সাফওয়ান হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা বাণিজ্যের সিন্ডিকেট
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা জামানের ছত্রছায়ায় মুকুল নামে এক ব্যক্তি এলাকায় মামলাবাজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী খালিদ মাসুদকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয়।
৭ জুলাই প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে—ডেমরা থানা বিএনপির প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক জামানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে মামলাবাণিজ্যের সিন্ডিকেট। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাতেও নিরীহদের আসামি করে অর্থ হাতানো হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
হাজী মোয়াজ্জেম আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসতাব উদ্দিন চৌধুরীর অভিযোগ, তাকে নিজ কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয় না, বরং আটকে রেখে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। তার নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, সহকর্মী শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য আদায় করা হচ্ছে—সবই প্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপিতে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই।”
মনোনয়ন প্রত্যাশী নবী উল্লাহ নবী বলেন, “আমার লোকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি এসব অভিযোগ জানি না। বিএনপিতে চাঁদাবাজদের জায়গা নেই।”
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই অপরাধচক্রকে রুখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ডেমরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা,পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর মুসলিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মোল্লা কাউসার (২৫)কে গ্রেপ্তার...
-
মংচিন থান তালতলী প্রতিনিধি।। বরগুনার তালতলীতে ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে উপজেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে । ১১ মার্চ ২০২৬ রোজ বুধবার...
-
খুবি প্রতিনিধি:সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের ১৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ রানার...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কলেজ ছাত্র সিয়াম মোল্লার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। বাঁশবাড়িয়া...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!