শিরোনামঃ

বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান ‘সহজ মানুষ’ অনুষ্ঠিত



স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : বিশ্ব মানবতাবাদী বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান ‘সহজ মানুষ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে পালিত এই দিবস উপলক্ষে লালনের আত্মাধিক গাণ শোনার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হাজারো লালন ভক্ত ও অনুসারীর সমাগম ঘটে। লালনের আধ্যাত্মিক সুর ও দর্শনের চর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাণী ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে মানবতাবাদী বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ভাব-দর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনার গানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান “সহজ মানুষ” অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জান। এসময় পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রূলী বিশ্বাস, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেব নাথসহ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার উদীচী, ত্রিবেনী, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কাশবন সাহিত্য পত্রিকাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বাউল শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন সাঁইজির কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ এবং ‘মিলন হবে কত দিনে’সহ একাধিক জনপ্রিয় লালনগীতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শিল্পকলা একাডেমি। গানের মধ্যে দিয়ে বাউলদের ভাব-গানে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা তুলে ধরা হয়। আর লালনের রচিত এসব শুনতে হাজির হন সংস্কৃতিপ্রেমিরা।


এই স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে লালন ভক্ত ও অনুসারীরা সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর সহজ-সরল মানবতাবাদী জীবনবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জনপ্রিয় লালনগীতিতে মুগ্ধ সাংস্কৃতিকপ্রেমিরা লালনের চেতনা ধরে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজনের দাবী জানান।


জেলা উদীচীর সভাপতি মো: নাজমুল ইসলাম জানান, লালন সাঁইজি সব সময় মানুষের গান গেয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ, জাতির ভেদাভেদ ভুলে মানুষের জয়গান গেছেন। লালনের যে গাছ রয়েছে আমাদের তা চর্চা করতে হবে। তাহলেই আমরা দেশপ্রেমে এগিয়ে যেতে পাড়বো, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর হয়ে যাবে।


কাশবন সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কবি মিন্টু হক বলেন, লালন সাঁইজি সব সময় মানুষের কল্যানের জন্য অত্মাধিক গান গেয়েছে। তার গানে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত ভেদাভেদ ছিলো না। তিনি সময়মন মানুষের জন্য গান গেছেন। লালনের আদর্শ ধারন করে তার গান সব সময় আমাদের শুনতে হবে, তাহলে আমরা মানুষ হয়ে উঠিতে পারবো।


সট : জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ধরে রাখতে আমরা মসব সময় সেচেষ্ট। সে কারনে বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। লালন সাঁই তার গানের মাধ্যমে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ঐক্য ও মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে লালন সাঁইয়ের দর্শন আরও গভীরভাবে পৌঁছে যাবে। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?