শিরোনামঃ

বামনায় নদীভাংঙ্গন রোধ উপকূলীয় এলাকার টেকসই উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে


​মাসুদ রেজা ফয়সাল: 

​বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদীর করাল গ্রাস থেকে জনপদ রক্ষায় অবশেষে আলোর মুখ দেখছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্লক প্রকল্প। উপজেলার কলাগাছিয়া লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণ রামনা খেয়াঘাট হয়ে কাকচিড়ার উত্তর গুদিঘাটা পর্যন্ত এই ব্লক প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তির হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিনের নদীভাঙন আতঙ্ক আর যোগাযোগ সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে উপকূলীয় এলাকার টেকসই উন্নয়নের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

​শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল সরজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

​পরিদর্শন ও বর্তমান অবস্থা

বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবদুল হান্নান দক্ষিণ রামনা এলাকা থেকে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তিনি ট্রলারযোগে বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ী, বলইবুনিয়া বেড়িবাঁধ ও রামনা লঞ্চঘাটসহ প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখেন।

​পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি , সমাজসেবক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য আলহাজ রুহুল আমিন শরীফ। তিনি বলেন, “উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে এই ব্লক প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হলে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।”

​প্রকল্পটি অনুমোদনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ আলহাজ নূরুল ইসলাম মণি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ রুহুল আমিন শরীফের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ঘরবাড়িই রক্ষা পাবে না, বরং বিষখালী তীরের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আধুনিক নগর উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে।

​কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পরিদর্শনকালে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবদুল হান্নান বলেন, প্রকল্পের কারিগরি দিক ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরুর মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেন তিনি।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: শওকত ইকবাল মেহেরাজ, পাথরঘাটা পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সালাউদ্দিন হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কোনো প্রকার কালক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে এবং বিষখালী নদীর ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে হাজারো একর আবাদি জমি ও বসতভিটা।


এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?