- প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫১ পিএম
আভাসের আয়োজনে তরুণদের ভাবনা ও অঙ্গীকারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন
বরিশালে উন্নয়নমূলক সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি এ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস) এর বাস্তবায়নে ইয়ুথ শেয়ার-নেট কার্যক্রমের আওতায়, রেডঅরেঞ্জ এর উদ্যোগে এবং অ্যামপ্লিফাই চেইঞ্জ এর সহায়তায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ’’জনাব এ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম ,জজ কোর্ট, বরিশাল’’, ‘’জনাব রুমা পারভীন,নারী ও শিশু ডেক্স অফিসার,বরিশাল কোতয়ালি থানা’’, ইউপি নারী সদস্য,তরুন নারী নেত্রী এবং বিভিন্ন সংগঠন ,কলেজ এবং কলোনী থেকে তরুন প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে নারীর অধিকার, বাল্য বিয়ের আইনত শাস্তি ও আইনগত সুরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সমাজে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল তার বক্তব্যে তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীসহ নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা একটি সমতাভিত্তিক, সহিংসতামুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাদের ভাবনা, অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তরুণদের সচেতনতা, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “তারুণ্যের ভাবনা” দেয়াল লিখনি ,যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ভাবনা, প্রতিশ্রুতি ও বার্তা লিখে নারীর অধিকার ও সমতার পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই দেয়ালে তরুণদের লেখনীতে উঠে আসে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার বার্তা। অনেকেই লিখেছেন—সমতার বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরই হতে হবে পরিবর্তনের অগ্রদূত।
তরুণেদের মধ্যে থেকে বন্যা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিবস নয়; এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান। নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের এই ভাবনা ও অঙ্গীকার ভবিষ্যতে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং একটি সমতাভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী নিপীড়নের বিচার ও নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে...
-
ইউরোপ প্রতিনিধি:-আনহার বিন সাইদ বার্সেলোনায় গ্লোবাল জানালাবাদ এসোসিয়েশন স্পেন'রউদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল০৯মার্চ ২০২৬ইং রোজ রবিবার বার্সেলোনা শাহ জালাল জামে মসজিদে...
-
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে “নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন” শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকরেন।এই অনুষ্ঠানে নারী কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা সরাসরি উপস্থাপন করেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম বলেন, কৃষিক্ষেত্রে নারী কৃষকের অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় তারা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুবিধা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হন। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজ সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া একটি বড় বৈষম্য।এ বছরের নারী দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য এরাব ঃড় এধরহ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা এবং ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।স্থানীয় প্রতিনিধিরা নারী কৃষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।নারী কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। সেখানে নারী কৃষকেরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!