শিরোনামঃ

‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেওয়া গরুর মাংস বিক্রি,  চরম বিতর্কে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরহাদ, শোকজ

                                                                বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে ‘আল্লাহর নামে’ রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনায় এবার চরম বিতর্ক ও চাপের মুখে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বার। তিনি বর্তমানে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর নামে’ সিল দিয়ে ছেড়ে দেওয়া ওই ষাঁড়টি জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফরহাদ মেম্বার নিজ ফেসবুক আইডি ও কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ষাঁড়টি জবাই করা হয়েছে। তবে এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা। তিনি বলেন,

“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কাউনিয়া থানা পুলিশও। কাউনিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল ভক্ত জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঘটনার জেরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাপ বাড়ছে ফরহাদ মেম্বারের ওপর। সংবাদ প্রকাশের পর ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী সোহেল হাওলাদার বলেন, “আমরা চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিল দিয়ে আল্লাহর নামে ষাঁড়টি ছেড়ে দিয়েছিলাম। সেটি পরে শায়েস্তাবাদের আট হাজার গ্রামে চলে যায়। এখন বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা হবে। সেই ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রি করে মাত্র ৫০ হাজার টাকার আরেকটি গরু কিনে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমি মামলা করবো।”

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে ওই ষাঁড় জবাই করা হয়। পরে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হয়। থানায় অভিযোগ হওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে আরেকটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে সামছুল কবির ফরহাদ মেম্বার ষাঁড় জবাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন,

“ষাঁড়টি আমরাই কিনে ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরে রোগা হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে জবাই করা হয়েছে। ৯৩ হাজার টাকায় মাংস বিক্রি হয়েছে। সেখান থেকে ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় কেনা হয়েছে।”

তবে দূর্গাপুরের সোহেল হাওলাদার কীভাবে ওই ষাঁড়ের মালিকানা দাবি করছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ফরহাদ মেম্বার।

স্থানীয়দের দাবি, ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেওয়া পশু জবাই করে মাংস বিক্রি শুধু অনৈতিক নয়, এটি মানুষের ধর্মীয় আবেগেও আঘাত করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?