যারা পেশি শক্তির মাধ্যমে ভোট ছিনিয়ে নিতে চায় তাদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রতিহত করা হবে-গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেছেন, যারা পেশী শক্তি প্রয়োগ করার চিন্তা ভাবনা করছেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে অতীতের মতো আবার ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর আছেন, সকলে আমি সতর্ক করে সজাগ করতে চাই এই বিপদজনক পথে পা বাড়াবেন না। পরিনাম ভাল হবে না। তাই প্রশাসনকে বলবো কোন কোন প্রার্থী অতীতের আচারণ স্বভাবগত কারণে ছাড়তে পারছেন না। তাদেরকে আপনারা ভাল করে বুঝিয়ে দিন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে, পেশী-শক্তির মাধ্যমে যদি কেউ জনতায় রায় কেউ ছিনতাই করার চেষ্টা করে, প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করতে বাধ্য হবো।
আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরলীর সমন্বিত সরকারী অফিস ভবন সংলগ্ন সড়কের উপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় পৌছান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি আরো বলেন, যদি কেউ ভোট চুরি করার দুরভিসন্ধি আঁটে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাল ভোট দেয়ার একটা পায়তারা হচ্ছে। আমাদের কাছে সংবাদ আছে তারা মারা মানুষ, বিদেশে আছে, এখানকার ভোটার অন্য জায়গায় থাকে তাদের তালিকা তৈরী করছে। অতীতে না কি নির্বাচনের সময় কবরস্থান থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে গেছে। তাই প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের কাছে জনপ্রচীর গড়ে তুলবেন, যাতে কবরস্থান থেকে কোন মরদার (মারা মানুষ)এসে ভোট দিতে না পারে। পোলিং এজেন্টদের বলবো কোন মরদার মানুষ যদি ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে আসে সেখানে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোর্পদ করবেন।
তিনি প্রশাসকে উদ্দেশ্য করে মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমরা আশা করি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আপনারা তৈরী করবেন। বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী প্রার্থীদের জয়জয়কার শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে রূখে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।যদি নির্বাচন কমিশন এই ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদানকারী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রূখে দিতে ব্যর্থ হয়, আগামী বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই যে কোন মূল্যে এতো রক্তপাত এতো শাহাদাৎ, এতো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশ কোন ভাবে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।
১১ দলীয় নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেন, আমরা বিশ্বাস করছি, আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার, ইনশাল্লাহ ১১দল কোন ব্যক্তির স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য গঠিত হয়নি। ১১ দলী নির্বাচনী ঐক্য কোন একটি দল বা কোন একটি গোষ্ঠকে বা জোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য সৃষ্টি হয়নি। ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে তাদের বৈষম্য, তাদের শোষণ বিগত দিনের জুলুমের শিকার হওয়া এই জনপদকে তাদের ন্যায়্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আরো বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল মত নির্বিশেষে আমরা অঙ্গীকার করেছি, প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যার যার প্রাপ্ত তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। যারা প্রকৃত অপরাধী, যারা বাংলার মানুষের কোল খালি করেছে, তারা যেমন পরিত্রাণ পাবে না। ঠিক তেমনি যে কোন দলমতের নির্দোষ নেতাকর্মিকে হয়রানি করে মামলা বাণিজ্য বাংলার মাটিতে করতে দেয়া হবে না। তাই আজ গোপালগঞ্জের মাটি ও মানুষকে বলতে চাই রিক্সা মার্কা মেহনতি মানুষের মার্কা। রিক্সা মার্কা, গরীব দুঃখি, নিম্ন আয়ের মানুষদের উপার্জনের শেষ ভরসা। অনেক সময় নানা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরতাল হয়, লকডাউন হয়, সব যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়, তখন ধনী গরীব সবাইকে রিক্সায় চড়ে বাড়ীতে ফিরতে হয়।
মামুনুল হক বলেন, অতীতে যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছিলো, স্বাধীনতার উত্তর পরবর্তি বাংলাদেশে বাংলার মানুষ যখন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে আশা করেছিলো জুলুম, শোষণমুক্ত একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ৫৪ বছর পযর্ন্ত বাংলাদেশের মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই ২৪ এর বিপ্লবের পর বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ থেকে বিশেষ করে নুতন প্রজন্ম আজ স্বপ্ন বুনছে হৃদয়ে হৃদয়ে। বাংলাদেশে আর সেই পুরানো দিনের বৈষম্যের রাজনীতি, গুন্ডামির রাজনীতি, আধিপত্যবাদের রাজনীতি, মাস্তানী ও সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন শেষ।
তিনি আরো বলেন, এ দেশের শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র, শিক্ষাবীদ এবং আলেম ওলামা জনদরদীয় মানুষ তারা রাজনীতি করবে, এদেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের হাতকে শক্তিশালী করবে। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি টেকনাফ থেকে তেতুরিয়া, রূপসা থেকে পাথুড়িয়া, সুন্দরবন থেকে বান্দারবনে আজ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে এক মহাজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। সেই জাগরণের ঢেউ লাগতে লাগতে শামসুল হক ফরিদপুরী গোপালগঞ্জের মাটিতে আজ জোয়ার লেগেছে। তাই নির্বাচনী এই পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আমি বাংলার মানুষকে বলবো মামলা বাণিজ্য, দলীয় সংর্কীর্ণতা আর দলীয় হানাহানীর এই রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে গোপালগঞ্জে রিক্সা চলছে। এখানে সবাই এসে রিক্সায় উঠুন। নিরাপদে যার যার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক আরো বলেন, আমি কথা দিচ্ছি আপনাদেরকে রিক্সার কান্ডারী হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে অযথা হয়রানির শিকার আমরা হতে দেবো না। কাউকে আমরা মামলা বাণিজ্য করতে দেবো না। আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী যেমন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন, এ অঞ্চলের প্রতিটি হিন্দু পরিবার, হিন্দু পরিবারের নারী পুরুষ আজও আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরীর নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ের অন্তরে শামসুল হক ফরিদপুরী সিংহাসনে বসে আছেন, ইনশাল্লাহ সেই ভাবেই হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির এক অন্যন্য গোপালগঞ্জ রিক্সা মার্কার প্রার্থীরা আপনাদেরকে উপহার দেবে।
আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন দিবস। কারণ এ দিন জাতীয় নির্বাচনের স