- প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬ ১০:৫৫ পিএম
ভোলায় মিতুর মৃত্যু: ‘হত্যা নয়, আত্মহত্যা’ দাবি স্বামীর পরিবারের, সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
ভোলা প্রতিনিধি ॥
ভোলা শহরের উকিলপাড়া গোরস্থান রোডের আলোচিত গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও, তার স্বামীর পরিবারের দাবি এটি একটি ‘আত্মহত্যা’। এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্বামীর স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন মিতুর স্বামী সোহাগের মামা মো. বজলুর রহমান। এসময় তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্যের প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বজলুর রহমান জানান, ২০২১ সালে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সোহাগ ও মিতুর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় মিতুকে প্রয়োজনীয় স্বর্ণালঙ্কার ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল এবং তারা দাম্পত্য জীবনে সুখী ছিলেন।
তবে প্রায় এক বছর আগে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। এ বিষয়ে মিতুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে জানান অলঙ্কারগুলো তার বাবার বাড়িতে আছে। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, তার বাবা-মা স্বর্ণালঙ্কারগুলো কোথাও বন্ধক রেখেছেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
বজলুর রহমান জানান, গত ৩ জুন রাতে তারা সবাই স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়েছিলেন। পরদিন ৪ জুন সকালে সোহাগ তার শিশু মেয়েকে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। সকাল ৮টার দিকে সোহাগের মা মিতুর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সোহাগকে খবর দেন। সোহাগ দ্রুত বাসায় ফিরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন মিতু ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও মিতুর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মিতুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো মাধ্যম যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসত্য তথ্য প্রচার করছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মিতুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মিতুর পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বললেও সোহাগের পরিবার সেটিকে অস্বীকার করছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সংগৃহীত আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আইসিটি সেল এর পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই)...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা:ভোলার বোরহানউদ্দিনের সাচরা ইউনিয়নে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!