ভোলার সাবেক এমপি জ্যাকবের দুর্নীতি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য! ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী বিপ্লবকে দুদকের তলব
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে নতুন মোড় এসেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, রেকর্ডপত্র এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিমাপ যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ১৯ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে দুদক।
দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা স্বাক্ষরিত গত ৭ এপ্রিলের একটি নোটিশ পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এ অভিযোগের অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজাকে টিম লিডার এবং সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকারকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে জ্যাকবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের রেকর্ডপত্র যাচাই, কাজের পরিমাপ গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করেছে অনুসন্ধানকারী দল। সে কারণে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও প্রকল্প পরিচালকদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়।
তলবের তালিকায় রয়েছেন বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা বিভাগ) এ.বি.এম. রেজাউল বারী। এছাড়া জলবায়ু প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান এবং মো. কামরুল আহসান, এলজিইডি ভোলার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমাল হোসেন, মো. আকবর হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও প্রভাস চন্দ্র বিশ্বাস।
এছাড়া তলব করা হয়েছে চরফ্যাশনের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোশাররফ হোসেন, বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ জগলুল ফারুক, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির (বর্তমানে আমতলী, বরগুনা), মো. সাইদুর রহমান (বর্তমানে কেরানীগঞ্জ, ঢাকা), আবু সায়েম (বর্তমানে কলাপাড়া, পটুয়াখালী), বিপ্লব কুমার বিশ্বাস (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী, বরিশাল জেলা পরিষদ), মো. শামীম হোসেন (বর্তমানে ঢাকা জেলা পরিষদ), সার্ভেয়ার নূর হোসেন (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), নকশাকার ও উপসহকারী প্রকৌশলী মিয়া মো. মুরাদ (বর্তমানে বড়লেখা, মৌলভীবাজার) এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসী, যিনি বর্তমানে এলজিইডির রাজবাড়ী নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত।
নোটিশে তাদের গত ১২ এপ্রিল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজের পরিমাপ ও মূল্যায়নে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তৎকালীন এলজিইডি ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল বলেন, “এ বিষয়ে শুধু এলজিইডির কর্মকর্তাদেরই দুদক তলব করেছে, বিষয়টি এমন নয়। পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তর নিয়েও দুদক কাজ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে, আমরা সঠিক তথ্যই উপস্থাপন করেছি।”
এদিকে জ্যাকবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে বরিশাল জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জ্যাকবের সুপারিশেই তিনি বরিশালে বদলি হন। বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমাকে ছাড়াও আরও অনেককে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে দুদকে। জানতে চাওয়া হয়েছে, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব নিজের নামে কোনো কাজ করেছেন কি না, কিংবা এসব প্রকল্পে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না। অভিযোগটি মূলত জ্যাকব সাহেবের বিরুদ্ধে। আমাদের শুধু তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। এখানে আমাদের সম্পৃক্ততার কোনো বিষয় ছিল না।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দুদকের নোটিশ অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগের অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।