শুধু গরু নয় এবার মহিষেরও খামার চরফ্যাশন


কামরুল সিকদার ভোলা-জেলা প্রতিনিধি॥ ভোলার চরফ্যাশনে এবার শুধু গরু নয়, আধুনিক পদ্ধতিতে খামারে পিজিয়ান জাতের উন্নত মহিষ পালন করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মেসার্স আপন এগ্রো ফার্ম। উন্নত জাতের মহিষ পালন,সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারটি ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে আগ্রহ তৈরি করেছে।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রচলিত গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি উন্নত জাতের মহিষ পালনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চর বিহীন যে মহিষ পালন করা যায়,তা একমাত্র ভোলার জেলা মধ্যে এই প্রথম আমি মনজুরুল আলম সায়েম মেসার্স আপন এগ্রো ফার্ম  চরফ্যাশন কলকাতা থেকে মরুয়া, নিলিগামীসহ ৪টি পিজিয়ান জাতের মহিষ পালন শুরু করে এখন খামারে প্রায় ৭০/৮০টি মহিষ পালন করছি। খামারে মহিষের পাশাপাশি এখন আমার খামারে প্রায় ৮০/৯০ উন্নত জাতের গরু রয়েছে। মহিষ গুলো খাছার মধ্যে চাষাবাদের ঘাসসহ সব ধরনের খাবার খায়। যেখানে চরের দেশীয় মহিষ ২/৩ কেজি দুধ দেয়,সেখানে আমার এই বন্ধী খামারের মহিষ সর্বনিম্ম  ৮/১০ কেজি দুধ দেয়। তার মধ্যে নিলীগামী গাভীটি ১৫ থেকে ১৬ কেজি দুধ দেয়। মহিষগুলো শান্ত সৃষ্ট সল্প জায়গার মধ্যে পালন করা সম্বব। গরুর দুধের চেয়ে মহিষের দুধের দামও চাহিদা বেশি। আমার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়’শ লিটার দুধ বিক্রি হয়।

এছাড়াও খামারে ছাগল এবং ভেড়া পালন করছি। বর্তমানে আমার খামারে ২০/২২জন শ্রমিক কাজ করছে।  পিজিয়ান জাতের মহিষের স্বাস্থ্যদ্রুত বৃদ্ধিও উৎপাদনক্ষমতা বেশি। রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাতে গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ।

বৃহস্পতিবার ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর দক্ষিণ ও উত্তর সিবা মেসার্স আপন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, খামারের মধ্যে উন্নত জাতের এসব মহিষ লালন-পালন করায় আশপাশের খামারিও উৎসাহী মানুষজনও খামারে আসছেন। এতে চরফ্যাশনে মহিষ পালনের আধুনিক পদ্ধতি বৃদ্ধির আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে চরফ্যাশনের মত উপকূলীয় এলাকায় মহিষ পালন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপন এগ্রো ফার্মের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজন আলী কালের কন্ঠকে বলেন, কলকাতা থেকে উন্নত জাতের মহিষ পালনে আপন এগ্রো ফার্ম দিয়ে শুরু করেছে। তবে মেসার্স আপন এগ্রো ফার্ম নতুন সম্ভবনার দুয়ার খুলছে। এরকম নতুন নতুন উদ্যোক্তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এছাড়াও আমরা খামারীদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি।উদ্যোক্তা হলে নিজেরা সাবলম্বী হচ্ছে এবং অন্যকেও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। এভাবে গরু,মহিষ, হাস-মুরগী এবং ছাগল পালনে সবাই এগিয়ে আসলে নিজেদের আমিনের চাহিদা পুরুনের পাশাপাশি অন্যের এবং দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?