শিরোনামঃ

শরতের শুভ্রতায় মুগ্ধ বরগুনা, বিসিকের কাশফুলে দর্শনার্থীদের ভিড়



সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃ

শরতের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। নীল আকাশ, মেঘের ভেলা আর বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাশফুল জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। বরগুনা শহরের পাশেই বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা এখন টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। শহরের কোলাহল ছেড়ে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। 


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য কাশফুল। সবুজের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা কাশফুল বাতাসে দুলছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের মাঝে যেন সাদা চাদর বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। 


বিশেষ করে, ছুটির দিনগুলোতে এই দৃশ্য উপভোগ করতে শিশুদের নিয়ে ছুটে আসছেন অভিভাবকরাও। কেউ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি কিংবা ভিডিও ধারণ করছেন। আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কাটাচ্ছেন অবসর সময়। শিশুদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো। 


বরগুনা শহরের আশপাশে বিনোদনের পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় কাশফুলে ঘেরা বিসিক শিল্পনগরীর এই এলাকাটি অনেকটা স্বতঃস্ফূর্ত বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে সন্তানদের মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে কিছুটা দূরে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের নিয়ে এখানে আসছেন। 


স্ত্রীকে নিয়ে কাশফুল দেখতে আসা আশীষ হাওলাদার জানান, শরতের সময়ে কাশফুল ফোটে। কিন্তু বরগুনার কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়ার মতো তেমন জায়গা নেই। কাজের ব্যস্ততার পর এখানে এসে কিছুটা সময় কাটালে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। জায়গাটি খুবই সুন্দর। অনেক মানুষ আসছেন, সবাই নিজেদের মতো করে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন এবং আনন্দ করছেন। 


তার স্ত্রী পুজা জানান, কাশফুল ফুটতে শুরু করলেই বোঝা যায় শরৎ এসেছে, বর্ষা বিদায় নিচ্ছে। কাশফুল যেন ঋতু পরিবর্তনের শুভ্র প্রতীক। বরগুনায় এমন সুন্দর পরিবেশ খুব বেশি নেই। এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে ভালো লাগছে। 


মেয়েকে নিয়ে বিসিক শিল্পনগরীতে ঘুরতে আসা স্কুলশিক্ষক নাদিরা বারেক দিবা জানান  পড়াশোনা শেষ করেই আমার সন্তান মোবাইল ফোন নিয়ে বসে যায়। বরগুনায় কাছাকাছি ঘোরার মতো জায়গাও খুব বেশি নেই। তাই কাশফুল দেখতে সবাই যখন বিসিকে আসছেন, আমিও মেয়েকে নিয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে এখানে ঘুরতে এসেছি। প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো ভালোই লাগছে। 


স্থানীয় বাসিন্দা ইশরাত জাহান রুমি জানান, মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসার মতো এমন একটি জায়গা বরগুনায় তৈরি হয়েছে, এটা ভালো লাগার বিষয়। মেয়ে সময় পেলেই মোবাইল নিয়ে বসে যায়। তাই আজ মোবাইল বাসায় রেখে তাকে নিয়ে কাশফুল দেখতে এসেছি। প্রকৃতির এই পরিবেশে এসে ওরও বেশ ভালো লাগছে। 


বরগুনা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান জানান, বরগুনা শহরের আশপাশে বিনোদনের জন্য যাওয়ার মতো জায়গা খুব বেশি নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোও অনেক দূরে। শরতের সময়ে বিসিক এলাকায় কাশফুল ফুটলে এখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয়। গত সাত-আট বছর ধরে আমরা একই চিত্র দেখে আসছি। তবে দুঃখের বিষয়, বিসিক শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষ কাশগাছ কাটা শুরু করেছে। গাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য অন্তত আরও কিছুদিন গাছগুলো না কাটলে ভালো হতো। 


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিসিক শিল্পনগরীর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা হলে এটি বরগুনা শহরের মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিনোদনস্থলে পরিণত হতে পারে। কাশবন রক্ষা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে শরতের এই সৌন্দর্য আরও দীর্ঘদিন উপভোগ করতে পারবেন মানুষ।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?