শিরোনামঃ

সংরক্ষিত নারী আসন :  গোপালগঞ্জে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর।


গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্কের|


একদিকে, আওয়ামী লীগ নেত্রীকে মনোনয়ন দেয়ায় জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন|


অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে| সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা করছেন নানা ধরনের মন্তব্য এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ছুড়ছেন নানা প্রশ্ন| সুবর্ণা ঠাকুর তিনি কি আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন না কি বিএনপির সদস্য হয়েছেন এমন প্রশ্ন সবার।


জানাগেছে, আজ সোমবার বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ নারীকে মনোনয়ন দেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়। সুবর্ণা মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী| তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক|


কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়| পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়| গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম|


তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।


গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’


টিটো ˆবদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘অফিসিয়ালি কোনো জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি| আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর কোনো ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনেই যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির ˆদন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না|’


পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, আমাদের জেলায় অনেক ত্যাগী নেত্রী রয়েছেন। কিন্তু তাদের রেখে আওয়ামী লীগের পদে থাকা একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেয়া হলো এক অত্যান্ত দু:খের বিষয়। আশা করি দল এটি বিবেচনা করবে।


জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন বলেন, দল যাকে ভালো মনে করেছে তাকে মনোনয়রন দিয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেখে রহমান নিজে দেখেছেন। আমরা তার সিদ্ধান্ততে স্বাগত জানাই।


জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এ্যঅভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা সেটাই মেনে নিবো। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যবো না।


এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও মনোনয়ন প্রত্যাশীর কথা স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ব্যস্তর অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?