শিরোনামঃ

শেবাচিমে ট্রলি সিন্ডিকেটের মূল হোতা নুরুন্নাহার এখন সংস্কারের স্লোগানদাতা!



সাকিব উল হক, বরিশাল

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চলমান সিন্ডিকেটবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হাসপাতালের ট্রলি ও ডায়াগনস্টিক সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত বহুল আলোচিত নুরুন্নাহার এখন আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিয়মিত স্লোগান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নুরুন্নাহার মূলত হাসপাতালের কোনো বৈধ কর্মচারী নন। ২০০৯ সালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অস্থায়ীভাবে যোগ দিলেও অপকর্মের কারণে পরে চাকরি হারান। তারপরও বিনাবেতনে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অবস্থান করতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে ভুয়া রেজাল্টশিট ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে চাকরির দাবি তোলেন এবং সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসব ঘটনায় তৎকালীন দুই পরিচালক একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, নুরুন্নাহার এখনো হাসপাতালে প্রভাব খাটিয়ে যান। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে তার রয়েছে চুক্তি, এমনকি ট্রলিগুলো তালাবদ্ধ রেখে বাণিজ্য করেন বলেও জানা গেছে। আন্দোলনের সময় ট্রলি সিন্ডিকেট ধরাপড়লে সে নিজের বাঁচানোর কৌশলে অন্যের নাম বলেও পার পেয়ে যান।

উল্লেখ্য, গত ১০ দিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট দমন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরিশালের সাধারণ ছাত্র ও জনতাকে নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন বরিশালের সন্তান মহিউদ্দিন রনি।


এই ছাত্র জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মহিউদ্দিন রনি বলেন,“নুরুন্নাহার আমাদের আন্দোলনে থাকত, স্লোগান দিত। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় আজ (বুধবার) থেকে তাকে আন্দোলনে অংশ নিতে নিষেধ করেছি।”

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ.কে.এম মশিউল মুনীর বলেন,“নুরুন্নাহার অত্যন্ত ধুরন্ধর নারী। তার বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ থেকেও অনেক অভিযোগ এসেছে। ওসি কোতোয়ালীকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আন্দোলনরত ছাত্র ও সুধীসমাজের দাবি, প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে শেবাচিমকে একটি সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?