শিরোনামঃ

শায়েস্তাবাদে দুই লাখ টাকার ষাঁড় জবাই: প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জিডি, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ


বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানাধীন শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের রাজাপুর চর এলাকায় প্রকাশ্যে একটি ষাঁড় গরু ধরে নিয়ে নির্মমভাবে জবাই, মাংস বিক্রি ও ভাগ-বণ্টনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ সোহেল হাওলাদার।

জিডি সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার (৪০) জানান, প্রায় ৭-৮ বছর আগে এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে একটি ষাঁড় গরু ক্রয় করে সমাজে ছেড়ে দেন। দীর্ঘদিন ধরে গরুটি রাজাপুর চরসহ আশপাশ এলাকায় অবাধে বিচরণ করছিল। বর্তমানে গরুটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে রাজাপুর চর এলাকা থেকে গরুটি ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে, আনুমানিক ৩টার দিকে গোপনে গরুটি জবাই করা হয়। এরপর মাংসের একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং বাকি অংশ অভিযুক্তদের মধ্যে ভাগ-বণ্টন করা হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে শামছুল কবিরসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে স্থানীয় এক প্যানেল চেয়ারম্যানও রয়েছেন—যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, গরুটির সন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন তারা।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার কারণে এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটেছে এবং দ্রুত বিচার না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরও বাড়বে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?